গাজীপুর প্রেসক্লাবকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা, ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টার প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত কয়েকজন সাংবাদিকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। বুধবার (১ জুলাই) গাজীপুর প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাংবাদিকরা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তথ্য উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন সাংবাদিক নেতারা।
স্মারকলিপি ও মানববন্ধনে বক্তাগণ অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছর ধরে গাজীপুর প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থাকা কতিপয় ব্যক্তি ক্লাবটিকে অঘোষিতভাবে তৎকালীন সরকারি দলের কার্যালয়ে পরিণত করেছিলেন। পেশাদারিত্ব বিসর্জন দিয়ে তারা ক্লাবের ভেতরে শেখ মুজিবুরের জন্মদিন, মৃত্যু দিবস, ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন, শেখ রাসেলের জন্মদিনসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি পালন এবং দলবেঁধে টুঙ্গিপাড়ায় মাজার জিয়ারতের নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছেন। তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও সাবেক মেয়রের তোষামোদি করে এবং অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে এই চক্রটি বিপুল অর্থ-সম্পদ ও অবৈধ সুবিধা হাসিল করেছে বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।
বক্তাগণ আরো বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর পেশাদার সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে ক্লাবের বিতর্কিত কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি 'তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলী' গঠন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা পুনরায় ক্লাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংবাদিক নেতারা জানান, ক্লাবের
তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গত ২৯ জুন সাবেক কমিটির নেতারা একটি অবৈধ সভা আহ্বান করেন। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়। এছাড়াও গত সোমবার (৩০ জুন) প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত একটি ফল উৎসবে সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর, মন্ত্রী মোজাম্মেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা শওকত ওসমানকে প্রধান অতিথি করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতা, যা সাধারণ পেশাদার সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ করেছে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকরা "গর্জে উঠুক প্রতিবাদ নিপাত যাক ফ্যাসিবাদ, নিরাপদ হোক গাজীপুর প্রেসক্লাব।" 'গাজীপুর প্রেসক্লাবকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে হবেসহ' বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অনতিবিলম্বে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক এসপি) হারুন-অর-রশীদ এবং সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের ক্লাব থেকে বহিষ্কার ও বিচারের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া না হলে সাধারণ সদস্যরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং মাজহারুল ইসলাম কাঞ্চনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য দেলোয়ার হোসেন, তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর সদস্য ফারদিন ফেরদৌস, প্রেসক্লাব সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক আবুল হোসেন চৌধুরী, খোরশেদ আলম, অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, হাফিজুর রহমান, মনির সরকার, মনজুরুল হক গাজী, গোলাম রসুল দিনার প্রমুখ।
এছাড়া গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে গাজীপুর প্রেসক্লাবকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার সাংবাদিকদের একটি নিরাপদ সংগঠনে পরিণত করার জোর দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা