গাজীপুরে বালাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) কৃষিমন্ত্রী রিভিউ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং কৃষির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও কৃষকবান্ধব করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভা এবং অভ্যন্তরীণ গবেষণার পর্যালোচনার আয়োজন করা হয়। কৃষি গবেষণার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে আয়োজিত এ কর্মশালায় মিলিত হন কৃষি খাতের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিজ্ঞানীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বারির কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম।
কর্মশালার শুরুতেই প্রধান অতিথি ও সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল কাদির। পরে অতিথিরা বারির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বিজ্ঞানীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গবেষণার ওপর। তাই সময়ের চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং কৃষকের বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে গবেষণাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল নতুন ফসলের জাত, উন্নত প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী গবেষণাই আগামী দিনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের মাঠে পৌঁছে দিতে হবে। গবেষণার ফলাফল বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত গবেষণা কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ পর্যন্ত বারির বিজ্ঞানীরা ৬৮টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ) ফসলের জাত, ৬৯টি উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সর্বমোট ১ হাজার ১৭৩টি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এসব প্রযুক্তি দেশের তেলবীজ, ডাল, আলু, শাকসবজি ও ফল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল কাদির। বারির গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা পরিচালক ড. ফারুক আহমেদ।
কর্মশালায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালক মো. সাইফুল আজম খান, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরিচালক ড. মো. সাইফুল আলম, বারির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত এবং পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাজহার উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বারির বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
দেশের কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু সহনশীল করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার সুপারিশ ভবিষ্যৎ গবেষণার রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা