সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ–গোয়াইনঘাট সংযোগ সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে গাছ অপসারণ জটিলতায় প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে।
আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্পের আওতায় বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাদার পার বাজার থেকে দমদমা পর্যন্ত নির্মাণাধীন প্রায় ০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি সড়কের মাঝখানে থাকা ৪০ থেকে ৪৫ টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছ দাঁড়িয়ে থাকায় আরসিসি ঢালাই ও ড্রপ ওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রায় ২৭ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সড়কটি সম্পন্ন হলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি, তরুণ ছড়া, উথমা ছড়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গাছগুলো অপসারণ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ এগিয়ে নিতে পারছে না। এতে করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মোঃ মালু মিয়া বলেন, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের মাঝখানে গাছগুলো পড়ে আছে। বনবিভাগের লোকজন কয়েক দফা এসে গাছ গণনা করে গেলেও অপসারণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
প্রায় ২৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প কেবল গাছের কারণে বন্ধ হয়ে আছে, অথচ হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ বলেন, সড়কের মাঝখানে থাকা গাছ অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গাছগুলো অপসারণ না হওয়ায় পুরো প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়বে।
অন্যদিকে বনবিভাগের সারি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে বনবিভাগ চিঠি পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া এবং বৈঠক হলেও বনবিভাগ এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে এলজিইডির নির্মাণাধীন ড্রপ ওয়ালের মাঝখানে গাছ থাকায় ঢালাই কাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সময় যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে মানুষের কষ্ট এবং প্রশ্ন উঠছে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে বনবিভাগ, এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে অবিলম্বে গাছ অপসারণ করে প্রায় ২৭ কোটি টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।