1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী, দুর্ভোগে শত শত মানুষ" - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে এনসিপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ এল,এল,বি পরীক্ষায় দেশ সেরা প্রথম শ্রেণীতে প্রথম মাদারীপুরের কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল ন্যাশনাল সার্ভিস অনার অ্যাওয়ার্ড পেলেন নবযুগ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর আখাউড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন রেস্টুরেন্টকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা বিকাশের ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার ৭২ লাখ ‎নিয়ামতপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঁচবিবি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ​সুনামগঞ্জে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত: পুনরায় সভাপতি পলাশী ও সেক্রেটারি সোহেল সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের

গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী, দুর্ভোগে শত শত মানুষ”

reporter রংপুর (গঙ্গাচড়া) প্রতিনিধি
calendar প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা কবরস্থান থেকে মকসুদুলের বাড়ি পর্যন্ত এবং মকসুদুলের বাড়ি থেকে তেলি পাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মাজেদ এর বাড়ি থেকে পাকা মসজিদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার( প্রায়) কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে, অনেক জায়গা কাদায় পরিণত হয়। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ১৫শ’ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হই।চার দিন আগে আমার বাসায় আসা মেহমান ভ্যান সহ পুলের কাছে জে গর্ত আছে সেখানে পড়ে গেছে।
আরিফ মিয়া বলেন , এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যেতে এই রাস্তার ওপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। কিন্তু রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
অএ এলাকার বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তিনি ঠিকমতো চলাচল করতে পারেন না। রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি এলাকায় কারও বিয়ের অনুষ্ঠান হলে বরযাত্রীদের গাড়িও অনেক সময় রাস্তা দিয়ে আসতে পারে না। তাই দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
ভ্যানচালক বাবলু মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তখন ভ্যান নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েক দিন আগে ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে তিনি আহত হয়েছেন বলেও জানান। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি তার।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, তার মেয়েসহ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। একজন অভিভাবক হিসেবে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
ভ্যানচালক সুরুজ মিঞা বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে তিনি রাতে ভ্যান বাড়িতে নিতে পারেন না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় মানুষের বাড়িতে ভ্যান রেখে আসতে হয় এবং সকালে গিয়ে সেটি নিয়ে বের হতে হয়। প্রায় চার বছর ধরে রাস্তাটির সংস্কার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় দোকানদার কাদের বলেন, রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে মানুষ তার দোকানে আসতে চায় না। এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, এই রাস্তা দিয়ে ঠিকমতো ভ্যানও চলাচল করতে পারে না। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
জুয়েল মিয়া বলেন, বর্ষার সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলেও ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে অনেক সময় রোগীকে কোলে করে বা অন্যভাবে রাস্তার ভালো অংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।
লিখন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হলে প্রায় ১৫শ’ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি শাহীনুর রহমান শাহিন বলেন, এবারের অতিবৃষ্টিতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। রাস্তাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমি দ্রুত অবগত করব।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে? কবে সংস্কার হবে রাস্তাটি? জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত রাস্তাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে প্রায় ১৫শ’ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com