গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই বিরোধকে ঘিরে একদল কিশোর ও তরুণ সংঘবদ্ধভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের তৎপরতায় এলাকায় প্রায়ই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মারামারি, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় একটি পক্ষ 'ময়মনসিংহ গ্রুপ' নামে পরিচিত। অপরদিকে, কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারের নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে ফয়সাল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ জুন রইজউদ্দিন ও রাহিমের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে রাহিম বিষয়টি ফয়সাল সরকারকে জানালে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর রইজউদ্দিনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে গুরুতর আহত রইজউদ্দিনকে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাহিম প্রতিবেদকের কাছে বলেন, "রইজউদ্দিনকে আমি নিজেই মারধর করেছি। ফয়সাল ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন।" যদিও তিনি ঘটনার পেছনে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ফয়সাল সরকার বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ফয়সাল সরকারকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে মহড়া, মোটরসাইকেল শোডাউন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও স্বাধীন প্রমাণের ভিত্তিতে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনটির তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে অভিযুক্ত ফয়সাল সরকার প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে "বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে" বলে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেদক। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা