1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
ঐক্যের ডাক ও গণতান্ত্রিক সংকট: বিএনপির বক্তব্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে? - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
দেশীয় পশুতেই শতভাগ কোরবানি সম্পন্ন, দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার পশু: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাতমাথার দইপট্টিতে অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ‘লোক দেখানো অভিযান’ অভিযোগে ক্ষোভ বিরলে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট খননের অভিযোগ সড়ক সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে নালিতাবাড়ীতে মানববন্ধন বরগুনায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে পুলিশ সদস্যের নামে মামলা কাজিরহাট হিন্দু সম্প্রদায়ের বিষ্ণুপ্রিয়ার গরু চুরি ৭ নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রূপ বদলাতে আসছি আমি, আপনাদের সন্তান হিসেবে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গুপ্তলীগের গুপ্ত মিছিল’ প্রতিহতের আহ্বান, চট্টগ্রামে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঐক্যের ডাক ও গণতান্ত্রিক সংকট: বিএনপির বক্তব্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

reporter ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
calendar প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:২০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন সব সময়ই একটি সংবেদনশীল ও নির্ণায়ক বিষয়। রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা- এই তিনটি প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। এই বাস্তবতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য- “যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হতে হবে” স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই বক্তব্যকে বুঝতে হলে আবেগ বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে এর প্রেক্ষাপট, অন্তর্নিহিত বার্তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি।

লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকায় আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রথমত, নির্বাচন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, সেই অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় দলীয় ঐক্যের ওপর জোর। তৃতীয়ত, বিএনপিকে একটি বিকল্প রাষ্ট্র পরিচালনাকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা। এই তিনটি দিক মিলিয়ে বক্তব্যটি কেবল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

তারেক রহমানের বক্তব্যে ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটির পুনরাবৃত্ত ব্যবহার লক্ষণীয়। তাঁর মতে, নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি এই আশঙ্কার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, ক্ষমতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নে সহিংসতা প্রায়ই নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে এ ধরনের সহিংসতা কেবল একটি দলের জন্য নয়; এটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক।

এই প্রেক্ষাপটেই ‘যেকোনো মূল্যে’ শব্দবন্ধটির ব্যাখ্যার প্রশ্ন সামনে আসে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অবশ্যই নিয়মিত ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন যদি সংঘাত, ভীতি বা অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার বদলে আরও দুর্বল করতে পারে। ফলে তারেক রহমানের বক্তব্যকে গণতান্ত্রিক দাবি হিসেবে দেখার পাশাপাশি, সেই দাবির বাস্তবায়ন কৌশল কী হবে- তা নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দলীয় ঐক্যের ওপর জোর। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সাংগঠনিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে- এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে অজানা নয়। অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে মতভেদ দলটির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করেছে। এই বাস্তবতায় ঐক্যের আহ্বান একটি বাস্তব রাজনৈতিক প্রয়োজনের প্রতিফলন বলেই মনে হয়।

মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বহুল ব্যবহৃত একটি বাক্য। তবে বাস্তবে এই নীতির কার্যকারিতা নির্ভর করে দলীয় গণতন্ত্র ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর। দলীয় সিদ্ধান্ত যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে ঐক্যের আহ্বান দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কঠিন। এই জায়গায় বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ হলো- শুধু ঐক্যের ডাক দেওয়া নয়, বরং সেই ঐক্য টিকিয়ে রাখার মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা।

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনার মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষা, তরুণদের কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও পরিবেশ- সব ক্ষেত্রেই দলটির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক দলের জন্য এটি একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটারদের বড় অংশ শুধু পরিকল্পনার তালিকা নয়, বরং বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা খোঁজে। অতীত অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজনৈতিক আচরণ- এই তিনটি বিষয়ই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তারেক রহমান অতীতের শাসনামলের উদাহরণ টেনে বিএনপির সক্ষমতার কথা বলেছেন। এটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস একমাত্রিক নয়। বিভিন্ন সময়ের সাফল্য ও ব্যর্থতা/ দুটিই জনস্মৃতিতে বিদ্যমান। ফলে নতুন করে আস্থা অর্জনের জন্য অতীতের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সমালোচনার ক্ষেত্রগুলো স্বীকার করা এবং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের প্রশ্নে ‘সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার’ আহ্বানের তাৎপর্য এখানেই যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক অংশগ্রহণ ক্রমেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত হয়ে পড়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও আস্থার সংকট একটি বড় বাস্তবতা। এই সংকট কাটাতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আগে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে ভোটকে সত্যিকার অর্থে অর্থবহ বলে মনে হয়।

সবশেষে বলা যায়, তারেক রহমানের বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এতে যেমন নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে, তেমনি বিদ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার গভীরতাও প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কেবল একটি দলের আহ্বানের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি নির্ভর করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী- সব রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সক্ষমতার ওপর।

নির্বাচন প্রয়োজন- এ নিয়ে দ্বিমত নেই। প্রশ্ন হলো, সেই নির্বাচন কীভাবে হবে এবং তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, ‘যেকোনো মূল্যে নির্বাচন’ একটি রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকবে, নাকি তা সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি কার্যকর পথ হয়ে উঠবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com