বাংলাদেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ৭০ বছর পূর্ণ করে ৭১ বছরে পদার্পণ করলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিন্তা, দর্শন, তত্ত্ব, রাজনীতি, আন্দোলন, সংগঠন, লেখালেখি, আলোচনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আদর্শে অবিচল, ব্যক্তিজীবনে সাদাসিধে এবং জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরলস এই রাজনীতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
সাইফুল হক সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কখনো কর্মী, কখনো সংগঠক, আবার কখনো নেতৃত্বদায়ী ভূমিকায় থেকে মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি একজন লেখক, চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষক হিসেবেও রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রায় ৪৫ বছরের লেখালেখির নির্বাচিত রচনাবলী আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস, রাষ্ট্র, সমাজ, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে তার লেখাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ, রাজনৈতিক শালীনতা এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বহু মানুষের প্রশংসা অর্জন করে।
তার ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে “আমাদের কালের দাবি” প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ সংকলন গ্রন্থ “যে জীবন মানুষের তরে”। গ্রন্থটিতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম, চিন্তা, দর্শন, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানবিকতা এবং জনমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হবে। এই গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একজন সংগ্রামী রাজনীতিকের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শুভেচ্ছা বার্তা,বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক শুভেচ্ছা বিবৃতিতে বলেন—
“সাইফুল হক একজন নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি ভালোবাসা, সততা ও আদর্শ দিয়ে পরাজয়কেও পরাজিত করেছেন। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি মানবাধিকারের পক্ষে এক নির্ভরযোগ্য কণ্ঠস্বর। মায়ের ডাক, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি এবং অধিকারভিত্তিক বিভিন্ন আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি ও বক্তব্য আন্দোলন-সংগ্রামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।”
তিনি আরও বলেন—”আমরা বিশ্বাস করি, দেশ ও মানুষের কল্যাণে সাইফুল হকের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং নৈতিক নেতৃত্ব আগামী দিনেও জাতিকে পথ দেখাবে। তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কর্মময় জীবন কামনা করছি।”
শুভ জন্মদিন,শুভ জন্মদিন আমাদের প্রাণের মানুষ, সংগ্রামের মানুষ, ভরসার মানুষ, মানুষের অধিকারের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর—প্রিয় সাইফুল হক।
আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে অব্যাহত কর্মযজ্ঞ কামনা করছি।