কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়; এটি বর্তমানের বাস্তবতা। পড়াশোনা, লেখালেখি, গবেষণা, অনুবাদ, কোডিং থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে তরুণ প্রজন্ম এআই ব্যবহার করছে। একটি প্রশ্ন তাই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে । এআই কি আমাদের কাজ সহজ করছে, নাকি ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার ক্ষমতাকেই অলস করে দিচ্ছে? প্রশ্নটির উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন। এআই শিক্ষার্থীর জন্য অসাধারণ সহায়ক হতে পারে। কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝানো, উদাহরণ দেওয়া, ভুল ধরিয়ে দেওয়া কিংবা নতুন ধারণার সন্ধান এসব ক্ষেত্রে এআই শিক্ষার গতি বাড়াতে পারে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন শিক্ষার্থী শেখার পরিবর্তে শেখার কাজটিই এআইয়ের হাতে তুলে দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় এআই ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক শ্রম অন্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় বেশি এআই-নির্ভরতার সঙ্গে কম সমালোচনামূলক চিন্তা ও কম জ্ঞানীয় সম্পৃক্ততার সম্পর্কও উঠে এসেছে। বিষয়টি সহজেই বোঝা যায় একটি সাধারণ উদাহরণে। একজন শিক্ষার্থী যদি একটি রচনা লিখতে গিয়ে প্রথমে নিজে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে, যুক্তি সাজায়, তথ্য খোঁজে এবং নিজের ভাষায় লেখে তাহলে সে শুধু একটি রচনা তৈরি করছে না; সে একই সঙ্গে চিন্তা, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দক্ষতা তৈরি করছে। কিন্তু যদি সে শুধু এআইকে বলে, ‘আমার জন্য ৫০০ শব্দের রচনা লিখে দাও’, তাহলে কাজটি হয়তো দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আর তার নিজের মধ্যে তৈরি হবে না। এখানেই ‘অলসতা’র প্রকৃত বিপদ। শারীরিক শ্রম কমানো সবসময় খারাপ নয়। প্রযুক্তির বড় উদ্দেশ্যই মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচানো। কিন্তু চিন্তার শ্রমও যদি নিয়মিতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হতে পারে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত এআই ব্যবহারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিফলন, বোঝার আগ্রহ ও সমালোচনামূলক চিন্তায় কম সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা এসেছে। তবে এআইকে একতরফাভাবে ‘শিক্ষার শত্রু’ বানানোও ভুল। একই প্রযুক্তি একজন শিক্ষার্থীকে দুর্বল করে দিতে পারে, আবার অন্য একজনকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে। পার্থক্যটা নির্ভর করে ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর। এআই যদি উত্তর দেওয়ার যন্ত্র হয়, তাহলে তা চিন্তার বিকল্প হতে পারে; কিন্তু এআই যদি প্রশ্ন করা, যুক্তি যাচাই, ভুল শনাক্ত করা ও নতুন ধারণা নিয়ে বিতর্কের সহযোগী হয়, তাহলে সেটি শেখার শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু এআই নিষিদ্ধ করা নয়। বরং শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে কখন এআই ব্যবহার করতে হবে, কখন নিজের মস্তিষ্ককে কাজ করতে দিতে হবে এবং এআইয়ের দেওয়া তথ্য কীভাবে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষাব্যবস্থাতেও এমন পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে কেবল মুখস্থ উত্তর বা প্রস্তুত লেখা দিয়ে সাফল্য পাওয়া না যায়। অভিভাবকদেরও বুঝতে হবে, সন্তানের হাতে এআই তুলে দেওয়াই ডিজিটাল শিক্ষার শেষ কথা নয়। সন্তান নিজে কোনো সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে কি না, বই পড়ছে কি না, প্রশ্ন করছে কি না এবং নিজের ভাষায় মত প্রকাশ করতে পারছে কি না এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এআই আমাদের নতুন প্রজন্মকে অলস করতেই হবে এমন কোনো অনিবার্যতা নেই। কিন্তু এআই যদি চিন্তার জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে অলসতার ঝুঁকি বাস্তব। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এআইকে মানুষের বিকল্প বানানো নয়, মানুষের চিন্তাশক্তির সহায়ক বানানো। কারণ ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ সে নয়, যে এআইকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতে পারে; বরং সে, যে জানে কখন এআইকে ব্যবহার করতে হবে এবং কখন নিজের মস্তিষ্ককে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তির যুগে তাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত এআইকে দিয়ে কাজ করাও, কিন্তু চিন্তাটা নিজের রাখো। দেখা গেছে বর্তমানে সংবাদকর্মীরাও এআই নির্ভর হয়ে পরেছে। নিজেরা তথ্য সংগ্রহ না করে ্এআই সহযোগিতা নিয়ে সংবাদ তৈরী করতে । এতে নিভূল সংবাদ অনেক সময় সমস্যা হয়ে থাকে । তাই অভিজ্ঞরা মনে করেন সব ক্ষেত্রে নয় ,শুধু প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে তাতে নতুন প্রজন্ম অলস হওয়া সম্বাভনা কম।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা