একদিকে কায়িক পরিশ্রমের অভাব আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারনে আশংকাজনক হারে বাড়ছে ” ফ্যাটি লিভার” অন্যদিকে সেলুন ও বিউটি পার্লারে অসচেতনতার কারনে একই ব্লেড – বা ক্ষুর ব্যবহারে ছড়াচ্ছে ” হেপাটাইটিস বি ও সি ” শুধু তাই নয়, মাদকসেবীরা একই সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার করলে ছড়াই এই ভাইরাস। মারাত্মক এই ব্যাধি এখন খুলনা সহ সমগ্র দেশের জনস্বাস্থ্যর জন্য বড় উদ্ধেগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হিমেল ঘোষ বলেন, অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, মাদকসেবিরা একই সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার করলে, এক রেজার একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে ও সেলুন- পার্লারে ক্ষুর বা ব্লেড, সুচের অনিরাপদ ব্যবহারে হেপাটাইটিস বি ও সি রোগ ছড়ায়। এগুলো ঝুঁকিপুর্ন। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পৃথক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে। অথবা জীবাণুনাশক থাকতে হবে। রেজারগুলো একবারই ব্যবহার করতে হবে। যদি কোন রোগীর কেটে যায়, সেই যন্ত্র অন্য কোন রোগী ব্যবহার করে তাহলে তার শরীরেও ছড়াবে। তিনি বলেন, হেপাটাইটিস ” সি ” রোগের অনেক ভেরিয়েন্ট রয়েছে। জটিল ও অনেক ধীরে কাজ করে। ফ্যাটি লিভার একদিকে যেমন মহামারি আকার ধারন করেছে, অন্যদিকে হেপাটাইটিস ” সি” নিরব ঘাতক হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। খুলনার খালিশপুর সেলুন ব্যবসায়ী আরমান বলেন, শুনেছি একজনের যদি রোগ থাকে তাহলে একই ব্লেড ও ক্ষুর ব্যবহারে অন্যজনের ছড়ায়। দেখা যাচ্ছে কোন রোগীর মুখে দানা থাকলে সেভ করার সময় কেটে রক্ত লেগে থাকলে সেই ব্লেড বা ক্ষুর জীবাণুমুক্ত না করে অন্যজনের ব্যবহার করা হয় তাহলে রোগ ছড়াতে পারে। এজন্য আমরা এক ব্লেড বারবার ব্যবহার করি না। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে স্যাভলন, ডেটল ও ফিটকিরি ব্যবহার করি। যাতে রোগ না ছড়ায়। এছাড়া প্রতিদিন রাতেও সকালে স্যাভলন দিয়ে যন্ত্রপাতি সুন্দর করে মুছে রাখি। একই কথা বলেন, অপর এক সেলুন ব্যবসায়ী মোস্তাক। তিনি বলেন, কি রোগ ছড়ায় তা জানি না। তবে কোন ধরনের রোগ যাতে না ছড়ায় তাই যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করি। এছাড়াও কিছু কিছু সেলুন – ও বিউটি পার্লারে ঘুরে দেখাগেছে, অসাবধানতা ও যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত ছাড়া কাজ করতে । যা মানব সাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানাগেছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীর শিশুদের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৮০ ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট পাওয়া গেছে। যার মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫১ ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: হিমেল ঘোষ বলেন, ইপিআই কর্মসুচিতে শিশুদের পেন্টাকালিন ভ্যাকসিনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস ” বি” এর টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে এক সঙ্গে পাঁচটি রোগের টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত এই টিকাদান কর্মসুচির কারনে হেপাটাইটিস ” বি” রোগের প্রাদুর্ভাব কমে আসছে। তিনি বলেন নির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ মো: কুতুবউদ্দিন উদ্দিন মল্লিক বলেন, দেশে হেপাটাইটিস ” বি” এর প্রাদুর্ভাব বেশি, তবে কমেছে। আগে ৭ শতাংশ ছিল, এখন ২-৪ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত। অনেকেই জানেন না কিভাবে এ রোগ ছড়ায়৷ আক্রান্ত ব্যক্তির যন্ত্রপাতি সাধারণ ব্যক্তি ব্যবহার করলে এটি ছড়ায়। ৩০ শতাংশ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। এই রোগ এইডস থেকে ১০০ গুন বেশি ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই রোগীর কোন পরিসংখ্যান নেই। আমি নিজেও হেপাটাইটিস ” বি” ও সি” ভাইরাস নিয়ে জরিপ করতে চেয়েছিলাম। তবে অর্থনৈতিক কারনে সেটা হয়ে ওঠেনি। তবে ইচ্ছা আছে এই পরিসংখ্যান বের করার।