সারাদেশে ভূমি সেবার সার্ভারে জটিলতা দেখা দেওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সেবা কার্যক্রম। টানা তিন দিন ধরে সার্ভারে কাজ করতে না পারায় দলিলসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ভূমি অফিসেও।
জমি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চর মানিকা ভূমি অফিসে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। সার্ভারে কাজ না হওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে দলিল সম্পন্ন করতে পারছেন না। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।
চর মানিকা ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কমলেন্দু মজুমদার বলেন, “আজ তিন দিন কোনো কাজ করতে পারছি না।”
তার বক্তব্যে সার্ভার জটিলতার কারণে স্থানীয় ভূমি সেবা কার্যক্রমের অচলাবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও প্রস্তুতি নিয়ে অফিসে আসার পরও সার্ভার সমস্যার কারণে তাদের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমস্যাটি শুধু চর মানিকা বা চরফ্যাশনের নয়; সারাদেশের ভূমি সেবা সার্ভারেই জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ভূমি অফিসে অনলাইননির্ভর সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, ডিজিটাল ভূমি সেবার ওপর মানুষ যখন নির্ভরশীল, তখন সার্ভার বিপর্যয়ের সময় বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে না কেন? দিনের পর দিন সার্ভার সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষকে অফিসে এসে ফিরে যেতে হলেও এর দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
তাদের দাবি, দ্রুত সার্ভার সচল করে ভূমি সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে সার্ভার সমস্যার কারণে আটকে থাকা দলিলসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সার্ভার সমস্যার কারণে সারাদেশে ঠিক কতগুলো দলিল ও ভূমি সংক্রান্ত সেবা আটকে আছে এবং কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।