1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
সরকারি চাকরি কি দুর্নীতি করার লাইসেন্স? - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড -সানজিদা ইসলাম এমপি শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ পাইকগাছায় হিলফুল ফুজুল এর ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন সিলেট নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পর্তুগাল প্রবাসী লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি-প্রতারণা করেছে সরকার: শফিকুর রহমান সিরাতুন্নবী( সঃ) শীর্ষক আলোচনা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা সরকারি চাকরি কি দুর্নীতি করার লাইসেন্স? আরজেএফ চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলামের বাসায় দুধর্ষ চুরি ১৮ কোটি মানুষের ভূমিসেবা,জনবল বাড়ানোর তাগিদ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু বিলুপ্তির পথে

সরকারি চাকরি কি দুর্নীতি করার লাইসেন্স?

reporter বাদল চৌধুরী
calendar প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিয়ে, কিন্তু তা হতে দিচ্ছে না কিছু দুর্নীতিবাজ চাকরিজীবীরা | সরকারি চাকরি কি দুর্নীতি করার লাইসেন্স? প্রশ্নটি শুনতে কঠিন হলেও সমাজের বাস্তবতায় এটি আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যখন ঘুষ গ্রহণ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন কিংবা সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেন, তখন তিনি শুধু একটি আইন ভঙ্গ করেন না, তিনি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।
সরকারি চাকরি কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের সেবা করার দায়িত্ব। একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে একজন সাধারণ নাগরিকের ন্যায়সংগত সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই সেবার বিনিময়ে ঘুষ দাবি করা মানে নাগরিকের অধিকারকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও সরকারি কর্মচারীর দুর্নীতিকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া হয়নি। প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট ১৯৪৭-এর অধীনে সরকারি কর্মচারীর ঘুষ গ্রহণ, সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—আইন থাকার পরও দুর্নীতি কেন কমছে না?
এর অন্যতম কারণ হতে পারে জবাবদিহির দুর্বলতা, দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সহনশীলতা। কোথাও কোথাও এমন সংস্কৃতিও তৈরি হয়েছে ‘চাকরি আছে, ক্ষমতা আছে, কিছু বাড়তি আয় করতেই পারে।’ এই মানসিকতাই ভয়াবহ।
সরকারি চাকরি কারও ব্যক্তিগত ব্যবসার ক্ষেত্র নয়। একজন কর্মকর্তা যত বড় পদেই থাকুন না কেন, তার ক্ষমতার সীমা আইন দ্বারা নির্ধারিত। জনগণকে হয়রানি করে, ফাইল আটকে রেখে, সেবা দিতে বিলম্ব করে কিংবা নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নিয়ে অর্থ আদায় করার অধিকার কারও নেই।
দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি শুধু রাষ্ট্রের অর্থের ক্ষতি নয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়। একজন নাগরিক যখন দেখেন যোগ্যতা বা অধিকার নয়, বরং ঘুষের মাধ্যমে কাজ দ্রুত হয়, তখন আইনের প্রতি তার বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে দুর্নীতি একটি ব্যক্তির অপরাধ থেকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।
তবে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিগ্রস্ত এমন ধারণাও ভুল। অসংখ্য সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হবে; অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদ, পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে যতটা সম্ভব ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইচ্ছাধীন ক্ষমতা কমে এবং ঘুষের সুযোগ সংকুচিত হয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু বক্তৃতা নয়, দৃশ্যমান শাস্তি প্রয়োজন। সম্পদের হিসাব, স্বার্থের সংঘাত, সরকারি ক্রয়, নিয়োগ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তাদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সরকারি চাকরি কোনো ব্যক্তিকে জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করার লাইসেন্স দেয় না; বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব দেয়। সরকারি পদ যত বড়, দায়িত্বও তত বড়। তাই রাষ্ট্রের অর্থ, জনগণের অধিকার এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
সরকারি চাকরি সম্মানের দুর্নীতির নয়। ক্ষমতা ভোগের নয়, সেবা দেওয়ার। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদকে যদি দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয় বানানো হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাই প্রশ্নটি শুধু ‘সরকারি চাকরি কি দুর্নীতি করার লাইসেন্স?’ নয়; বরং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে কোনো সরকারি পদই যেন দুর্নীতির লাইসেন্সে পরিণত হতে না পারে। এজন্য ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতা সবার মনে প্রাণে ধারন করতে হবে তাহলে দুর্নীতি থেকে দুরে থাকা সম্ভব |

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ এডিটরস গিল্ড

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com