1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে তজুমদ্দিনের হাজারো জেলের জীবিকা - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে তজুমদ্দিনের হাজারো জেলের জীবিকা পানিবন্দি ৭০০ পরিবারের মাঝে হুইপ বকুলের রান্না করা খাবার বিতরণ বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স এসোসিয়েশনের নতুন প্রেসিডেন্ট মানসুরা আহমেদ এবং জেনারেল সেক্রেটারি রুবেলুজ্জামান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পাবনা জেলা পুলিশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নকল করতে না দেয়ায় ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক করা হয়েছে থানা হেফাজত হতে পলাতক আসামিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি ‎প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমে উঠল এনপিআইইউবির প্রজেক্ট ফেয়ার প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে তজুমদ্দিনের হাজারো জেলের জীবিকা

reporter রাকিবুল ইসলাম, তজুমদ্দিন 
calendar প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ

বর্ষা এলেই মেঘনার বুকে শুরু হয় রূপালি ইলিশের মৌসুম। নদীর ঘাটজুড়ে ভিড় জমে মাছভর্তি ট্রলার, আড়ত, বরফকল ও ক্রেতাদের। কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে উপকূলের জনপদ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা দৃশ্য যেন হারিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে জেলে, শ্রমিক, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকসহ এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকায় নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।

গত কয়েক দিন তজুমদ্দিনের স্লুইসগেট মৎস্য ঘাট , চৌমুহনী মৎস্য ঘাট, কাটাখালি, আনন্দ বাজার,গুরুন্দা বাজার, মহেষখালি বাজার সহ বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ঘাটই প্রায় ফাঁকা। নেই মাছ বোঝাই ট্রলারের ভিড়, বরফ ভাঙার শব্দ কিংবা আড়তের ব্যস্ততা। চায়ের দোকানগুলোতেও নেই জেলেদের প্রাণচাঞ্চল্য। চারদিকে বিরাজ করছে হতাশা আর উদ্বেগ।

প্রতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। এ সময় জেলেরা সবচেয়ে বেশি মাছ পান এবং বছরের বড় অংশের আয়ও আসে এই মৌসুম থেকে। কিন্তু এবার মৌসুমের অধিকাংশ সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন নদীতে গেলেও অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে খালি হাতে। যে অল্প কিছু মাছ মিলছে, তা বিক্রি করে জ্বালানি, বরফ, খাদ্য ও শ্রমিকের মজুরির খরচও উঠছে না।

জেলেরা জানান, মৌসুম শুরুর আগে অনেকেই এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল মেরামত, ট্রলার সংস্কার ও জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা, প্রতিদিনই নতুন করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চৌমুহনী ঘাটের জেলে আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নদীতে থাকি। কিন্তু জাল তুললেই হতাশ হতে হয়। আগে একবার জাল ফেললেই ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন কয়েকবার ফেলেও তেমন মাছ মিলছে না। সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।’

ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় আড়ত ও বাজারেও। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেচাকেনা প্রায় স্থবির। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। কাজের অভাবে ঘাট শ্রমিকদের অনেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, ‘জাটকা নিধন, মা ইলিশ শিকার, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, স্রোত ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের কারণে ইলিশের বিচরণ ব্যাহত হতে পারে। তবে, মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনায় ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com