শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বাতকুতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন গ্রামে পরিত্যক্ত বাড়িতে মদের বোতলভর্তি কার্টন রাখতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথিত মাদককারবারীদের হামলায় নারীসহ একই পরিবারের ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নালিতাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে ভারতীয় মদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা হাবিবুর রহমানের ভাইয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত মদের বোতলভর্তি কার্টন মজুত রাখত। বিষয়টি জানতে পেরে হাবিবুর রহমান তাদের বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত ওয়াসিমের নেতৃত্বে আনিস, জসিম, হৃদয়, মনছুর, দুলাল, সেলিম, ফরহাদ, ফারুক, মাসুদ, দেলোয়ার, ইদ্রিসসহ আরও ৮–১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। প্রাণভয়ে পরিবারের সদস্যরা পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে টিনের ঘরের দরজা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভেঙে ফেলে।
পরে হাবিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের উঠানে এনে রামদা, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলার সময় এক নারীসহ মোট ৬ জন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা মামলা করলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত রবিলা খাতুনকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত অপর পাঁচজন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রধান অভিযুক্ত ওয়াসিম সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দুই ডজনেরও বেশি মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে এলাকার অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”