1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
তানোর কামারগাঁ গুদামে সিন্ডিকেটের ধান বাণিজ্য ! - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
বিরলে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিবাদে,রামগঞ্জে ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বিরলে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী ডিগ্রি কলেজে ভয়াবহ ভাঙন: হুমকির মুখে মূল ভবন, জরুরি সংস্কারের দাবি ‎বরগুনায় পাউবো’র জমি অবৈধ দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পূর্ব চরহোগলা সঃপ্রাঃবিঃ মাঠের বেহাল দশা ময়মনসিংহে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উদযাপিত থালা-চামচ বাজিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে শিক্ষকের অভিনব প্রতিবাদ ময়মনসিংহের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও চেষ্টা বাড়ানোর আহবান ডিসির দুপচাঁচিয়া ইসলামিয়া হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনের উদ্বোধন

তানোর কামারগাঁ গুদামে সিন্ডিকেটের ধান বাণিজ্য !

reporter মোঃ নাসিরউদ্দিন
calendar প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে রাজনৈতিক পরিচয়ের জনৈক জুয়েল নামের প্রভাবশালী গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে ধান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে সরকারের দেওয়া ধানের দাম পাওয়া ও গুদামে ধান দেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকগণ। এবারের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ নেই কৃষকের, তাদের নামে ধান দিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী জুয়েল। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার নেপথ্যে মদদে কৃষকের কার্ড ভাড়া নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষকের অগোচরে ধান দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ কৃষক ধান দিতে গেলে আর্দ্রতাসহ নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।এতে বাধ্য হয়ে কৃষক তার কৃষি কার্ড ভাড়া দিচ্ছে। কৃষক মাসুদ, সুজন ও ফারুক বলেন,তারা একাধিকবার গুদামে ধান দিতে গিয়েছেন,তবে ধানের ময়েশ্চার ঠিক নাই বলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্ত্ত ওই একই ধান কিনে নিয়ে জুয়েল গুদামে দিয়েছেন।
অথচ নীতিমালা অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকের উপস্থিতিতে ধান কেনার কথা।কিন্ত্ত  সিন্ডিকেট চক্র শত শত কৃষকের কার্ড দিয়ে ধান দিচ্ছে।
আবার যারা ধান দিবে না,যাদের ধান নাই তালিকায় সেসব কৃষকের নাম রয়েছে।অধিকাংশক্ষেত্রে শর্ত পুরুণ না করেই এসব ধান নেয়া হচ্ছে।নিজ এলাকার পরিবর্তে বাইরের এলাকার ধান ঢোকানো হচ্ছে।এছাড়াও টন প্রতি দেড় থেকে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন এলএসডি।
সরেজমিন সিসি ক্যামেরা ও কৃষকের মুঠোফোন নম্বর যাচাই ও গুদামে কেনা ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বাজারে মোটা ধানের দাম ৮শ’ টাকা থেকে হাজার টাকা,সরকার কিনছে এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ। প্রতি মণে কৃষক হারাচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা ধান এনে গুদামে দেয়া হচ্ছে। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে এ কাজ চলছে। এতে সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরকারের ভাবমূতি নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে,তানোরে চলতি বছরের ১৯মে মঙ্গলবার ধান-কেনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজি দরে অটো ও  হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১  আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে।
এর মধ্যে কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে কামারগাঁ ও কলমা ইউনিয়ন (ইউপি) থেকে ৫৫৫ মেট্রিকটন ধান কেনা হবে। প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে ধান কিনলেও বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৮শ’ টাকা থেকে  টাকা। আর সেই ধান কিনে সরকারি গুদামে দিয়ে মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের এসব প্রভাবশালীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি কামারগাঁ রাজনৈতিক পরিচয়ের কিছু প্রভাবশালী এসব করছে। তারা নিজেদের পছন্দের ইউনিয়ন (ইউপি) ও ভাগ করে নিয়ে নিজেদের বিশ্বস্ত লোক দিয়ে,সেসব ইউনিয়নের কৃষকদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করিয়েছেন। কৃষকদের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছেন তা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, শুরুতে তিনি সাধারণ কৃষক, বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে যেসব কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন তাদের তালিকা করে ধান দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু একশ্রেণীর প্রভাবশালীর লোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিনি দলের হাইকমান্ডের  নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উন্নয়নে ধানের সন্তোষজনক মূল্য দিয়েছেন আর তা লুটে নিচ্ছেন একশ্রেণীর প্রভাবশালী, এর ফলে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে,এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ।
এবিষয়ে কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আতিকুর রহমান আতিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজি দরে চাল ও ৩৬ টাকা দরে ধান-গম ক্রয় করবে। আগামী ৩১  আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে। তিনি বলেন,প্রকৃত কৃষকের কাছে থেকেই ধান কেনা হচ্ছে।এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভীন বলেন,তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।তিনি বলেন,তবে এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।
এদিকে কামাগাঁ ইউপির হরিপুর, ছাঐড়, মালশিরা, কচুয়া ও কাদিপুর এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে কথা হলে তাদের প্রায় সবারই বক্তব্য ছিল কাছাকাছি, সরকার ধান কেনে বলে শুনেছি। কিন্তু কীভাবে কখন ধান নেয়, সেই বিষয়ে ধারণা নেই তাদের। এ বিষয়ে কোনো প্রচার চোখে পড়েনি তাদের। বেশিরভাগ কৃষক জানেন না, সরকার কত টাকা মূল্যে ধান কিনছে। সরকারি গুদামে কতটুকু পর্যন্ত ধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন কৃষকের।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com