রাজধানীর প্রবেশমুখের তীব্র যানজট নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়ক ও সার্ভিস লেনের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের একটি বড় অংশ ঢাকা ও আশুলিয়ার অভ্যন্তরীণ ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ পাবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ফিতা কেটে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়ক ও সার্ভিস লেনের একাংশ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি, সিএমসির প্রেসিডেন্ট মি. কি ইউ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, বাইপাইল ও আশুলিয়া এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে সাভার-আশুলিয়া করিডোরের প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ যেখানে যানজটের কারণে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগত, সেখানে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটে পথটি পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।
মূল এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল প্রযোজ্য থাকলেও তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সার্ভিস লেনের সেতু দিয়ে স্থানীয় ও সাধারণ যানবাহন বিনামূল্যে নদী পারাপার করতে পারবে।
৪৪ কিলোমিটার হবে সিগন্যালমুক্ত পথ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হলে সাভারের ঢাকা ইপিজেড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পথ সিগন্যালমুক্তভাবে চলাচল করা যাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে আসতে পারে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টির বেশি জেলার বাস ও ট্রাক ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক এড়িয়ে সরাসরি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে পারবে।
সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় বাইপাইলে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক তিনতলা ইন্টারচেঞ্জ। একই সঙ্গে তুরাগ নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে উত্তরার ধউর থানার বেড়িবাঁধ পর্যন্ত পুরোনো সড়কটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সার্ভিস লেন ব্যবহার করে কোনো টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পারাপারের সুযোগ তৈরি হবে।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জটিলতায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (যুগ্ম সচিব) বলেন, “আজ থেকে মূল সড়ক ও সার্ভিস লেনের কিছু অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করবেন।”
তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
এদিকে এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পুরোপুরি পেতে সাভার, নবীনগর ও আরিচাঘাট দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ বাইপাইল মোড় থেকে নবীনগর সড়কের সংযোগস্থলে ওঠানামার জন্য দ্রুত একটি বিকল্প র্যাম্প বা সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, মূল সড়কের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংযোগ ও র্যাম্পগুলো দ্রুত চালু করা গেলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সুফল আরও ব্যাপকভাবে ভোগ করতে পারবেন সাভার-আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।