1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
ডিমলা শুটিবাড়ি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সারিয়াকান্দিতে সিএনজি চালকের লাশ উদ্ধার গোয়ালন্দে এসিল্যান্ডের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল শেখ বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার সরাইলে ৪ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি সংঘর্ষ, পাওনা টাকা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিতহ ১ চুরির অপবাদে ১৫ বছরের শিশু কারাগারে! পরিবার বলছে ‘নির্দোষ’, পুলিশের দাবি ‘স্বীকারোক্তি’ বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশনের নতুন কমিটি: সভাপতি সোলেমান সম্পাদক রুবেল মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী: ভোলায় ফুটপাতের পাগলী মা হলেও বাবা হলোনা কেউ..! ঘোড়াঘাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু, আহত ২ঘোড়াঘাটে বজ্র্রপাতে যুবকের মৃত্যু, আহত ২ বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজ চাকরিজীবীদের জন্য করণীয় কি কি? আশুলিয়ার মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ জাল কানাডিয়ান ডলার-ভিসা প্রতারণা, নীলফামারীতে ডিবির জালে গ্রেপ্তার ৫

ডিমলা শুটিবাড়ি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

reporter মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
calendar প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি সড়কের সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া, ভাঙা ইট ও পুরোনো কার্পেটিং পুনর্ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ” কর্মসূচির আওতায় সমায়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ সড়কের (চেইনেজ: ৭৫০০-৮৩৮০ এবং ৯১০০-১১৪০০ মিটার) সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্যাকেজ নম্বর: LGED/GOBM/Nil-25-26/RW-35
টেন্ডার আইডি: ১১৫৬১৫৮
প্রাক্কলিত ব্যয়: ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা
চুক্তিমূল্য: ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা।
কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে নীলফামারী সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জুনের শেষ সপ্তাহেও কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে তা পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুতের কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের কাজে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে তদারকিতে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে।
ক্ষোভ স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী বলেন,
“দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মান খুবই নিম্নমানের। এভাবে কাজ করলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না।
মোটরসাইকেল চালক রাসেল মিয়া বলেন,
ঠিকাদার যে উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন, তাতে সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।
স্থানীয় মমিনুর রহমান, খোরশেদ আলম, আয়নাল হক ও জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এক নম্বর খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া এবং রেজিংয়ের কাজে ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান।
তথ্য দিতে গড়িমসির অভিযোগ
প্রকল্পের দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে দুই দিন ঘুরেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কখনো কর্মকর্তার বদলির অজুহাত, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা বলে তথ্য দিতে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কসের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন,
“সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। মূল কার্পেটিংয়ের আগে যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গুণগত মানও যাচাই করা হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন,
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও কাজের ধীরগতির বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com