বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, অপরিষ্কার ড্রেন ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের পাইনাদি নতুন মহল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যেত। ড্রেনের পানি উপচে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ত। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে এবার মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য ও আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শহিদুল ইসলাম।
নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি ড্রেনের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরতে শুরু করেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, পাইনাদি নতুন মহল্লা, রহমত নগর, পাগলা বাড়ি, হিরাঝিল, আল-আমিন নগর, জুয়েল রোড ও পাইনাদি মধ্যপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। অনেক সময় মানুষকে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হতো। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে শহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন। কয়েকদিনের টানা পরিশ্রমে ড্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও পলি অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বিভিন্ন স্থানের প্রতিবন্ধকতাও সরিয়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানান, ড্রেন পরিষ্কারের ফলে এখন পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে। আগে যেখানে বৃষ্টির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকত, এখন সেই পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এছাড়া ড্রেনে জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতো এবং মশার বংশবিস্তার ঘটত, সেটিও অনেকাংশে কমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন একটি কার্যকর উদ্যোগে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের আশা, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এই কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মো. খায়রুল ইসলাম, শাহ আলম, মো. মিলন ও মো. সোহাগ। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে থেকে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন। শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার মানুষের কষ্ট দেখে বসে থাকতে পারিনি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে থেকেই মানুষের পাশে থাকতে চাই। জলাবদ্ধতা শুধু চলাচলের সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি বড় সমস্যা। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই উদ্যোগ নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করব।
স্থানীয়দের মতে, জনসেবার এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে যে জনগণের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতা থাকলে অনেক কাজই সম্ভব। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই শহিদুল ইসলামের এই উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ১নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।