বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : কালুরঘাটে ফেরির সঙ্গে ধাক্কায় একজন নৌযাত্রী নিহত হওয়ার পর কর্ণফুলী পারাপারে বন্ধ রয়েছে নৌকা চলাচল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফেরিতে পারাপার হতে জনপ্রতি ৫ টাকা করে নেওয়া অভিযোগ করছে সাধারণ যাত্রীরা।
এতদিন ফেরি দিয়ে যানবাহনের পাশাপাশি পার হতেন সাধারণ যাত্রীরাও। তবে ফ্রিতে পার হওয়া যাত্রীদেরকেও যানবাহনের মত এখন থেকে গুনতে হচ্ছে টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফেরির সাধারণ যাত্রীরা।
জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেরির ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ১ আগস্ট সংস্কার কাজের জন্য কালুরঘাট সেতু বন্ধ ঘোষণা করলে যানবাহন পারাপারে কালুরঘাটে ফেরি চালু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। ফেরি চালুর পর টোল নির্ধারণ করে ফেরিঘাট ইজারা দেয় সওজ। এতদিন যানবাহন পারাপারে টোল আদায় করা হলেও মানুষ পারাপারে টাকা নেওয়া হতো না। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে মানুষ পারাপারে টোল আদায়ের নতুন নিয়ম চালু করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রী সাধারণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা করছেন বোয়ালখালীর বাসিন্দারা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের টোল ও এক্সেল শাখার উপসচিব ফাহমিদা হক খান রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগাধীন কালুরঘাট ব্রিজের নদীর পশ্চিম প্রান্ত (মোহরা অংশ) থেকে পূর্ব প্রান্ত (বোয়ালখালী অংশ) পর্যন্ত ফেরিঘাট পারাপারকারী যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নিমিত্তে টোল নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়। এতে ট্রেইলার ৫৬৫ টাকা, হেভি ট্রাক/কাভার্ডভ্যান ৪৫০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক (২ এক্সেল বিশিষ্ট) ২২৫ টাকা, বড় বাস (চালক ব্যতীত ৩১ অথবা তদুর্ধ্ব আসন) ২০৫ টাকা, মিনি ট্রাক ১৭০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যান (পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর) ১৩৫ টাকা, মিনিবাস/কোষ্টার (৩০ জন যাত্রী বহনের উপযোগী) ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস (৮ থেকে ১৫ জন যাত্রী) ৯০ টাকা, ফোর হুইল চালিত যানবাহন (পিক-আপ, কনভারশনকৃত জিপ, রেকার) ৯০ টাকা, সিডান কার ৫৫ টাকা, অটো টেম্পু, সিএনজি অটোরিক্সা, অটোভ্যান, ব্যাটারিচালিত ৩/৪ চাকার মোটরাইজড যান ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০টাকা, রিক্সাভ্যান/রিক্সা/বাই সাইকেল/ঠেলা গাড়ি ৫ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়। এতে জনপ্রতি টোল আদায়ের বিষয়ে বলা হয়নি। অথচ ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি টোল আদায় করছে।
শাকপুরা মুহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, এটাকে মগের মুল্লুক বানিয়ে ছাড়ছে আমলারা। যে যেমন ইচ্ছা, তেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বোয়ালখালীকে যেন বাংলাদেশের আলাদা ভূখণ্ড বানানো হচ্ছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে জনপ্রতি ৫টাকা করে নেওয়া সিন্ধান্ত নেয়া খুবই হটকারিতা। প্রায় দশ হলো ফেরি চালু হলো সিদ্ধান্ত আগে নেয়নি কেন? এটা এক প্রকার বোয়ালখালীবাসীর উপর জুলুম।
এছাড়া ফেরির ইজারাদার মো. মনছুর আলম পাপ্পির মুঠোফোনে কল দিলে তিনিও সাড়া দেননি।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জনপ্রতি টোল আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু মাত্র যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে।