1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
মুকসুদপুরে বিএনপির কর্মী সভা মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম এর সাথে অনলাইন প্রেসক্লাব এর মতবিনিময় দুর্গাপুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, কেন্দ্র পরিদর্শনে- ইউএনও কাশিয়ানীতে যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ বহিষ্কার মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের সাথে অনলাইন প্রেসক্লাবের মতবিনিময় নদীর বুকেই চলছে টোলের নামে ত্রিমুখী চাঁদাবাজি! নওগাঁ -৬ আসনের এম,পির,উদ্যোগে রানী নগরে দুস্হদের মাঝে এাণ স্হ কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ পালন কর্মসুচির উদ্ধোধন মোহনপুরে দিন দিন বাড়ছে করলা চাষ, কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি ঠাকুরগাঁওয়ের, পীরগঞ্জে বিজিবি কর্তৃক ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট আটক

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন

reporter শামীম মীর, গৌরনদী 
calendar প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ

দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্য হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সকালে ৫ জন, বিকেলে ২ জন এবং রাতে ২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে ১ জুলাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনিযুক্ত আনসার কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,
হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করব। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিয়মিত আমাদের তদারকি করবেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিতে ও দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ভবানন্দ বাড়ৈ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সমাগম ঘটে। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌকীর আহমেদ বলেন,
হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অতীতে বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতীতে কয়েক দফা বহিরাগতদের সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বহিরাগতদের বিরোধ হাসপাতালের ভেতর পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব পাচ্ছিল।

এর আগে ১১ মে ২০২৬ গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সে সময় তিনি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং গয়নাঘাটার মা ও শিশু কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও নির্বিঘ্নে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com