মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ঢাকার সাবেক মেয়রের পুত্র এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কল্যাণে একটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রায় এক দশক আগে দেশে গুমের ঘটনা শুরু হয় এবং প্রায় ৩,৫০০ মানুষ এই নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, প্রযোজ্য আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন বিভাগটি গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দুর্ভোগ, অধিকার, পুনর্বাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে কাজ করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বেদনা, ক্ষতি এবং মানসিক যন্ত্রণা রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও সহমর্মিতা পাওয়ার দাবিদার। তিনি মনে করেন, এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রের এই দায়ভার আমরা সবাই ভাগ করে নিই এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিবারের কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
এদিকে, এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় গুম ও হত্যার শিকার ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করেছে মায়ের ডাক। ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যখন এসব পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখন সেটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মায়ের ডাক-কে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হলে কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি গুমের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করে তাদের বাস্তব সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর মায়ের ডাক-এর পাশাপাশি রাতারাতি অনেক নতুন সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং তারা কতটা আন্তরিকভাবে ভিকটিম পরিবারের কল্যাণে কাজ করছে—এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যেসব সংগঠনের উদ্দেশ্য সত্যিকার অর্থে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক, তাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তবে যদি কোনো সংগঠন ব্যক্তিস্বার্থ, আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে গড়ে উঠে থাকে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
তিনি বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বেদনা, ক্ষতি ও মানসিক যন্ত্রণার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, সমন্বিত ও মানবিক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।