মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সালের উপর দেশীয় অস্ত্রদিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। এঘটনায় গুরুতর আহত ফয়সাল আহমদ সিলেট একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত শনিবার রাতে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত আলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আলাল মিয়া পতনঊষার ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় ফয়সালের মা রুনা লায়লা বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে কমলগঞ্জ থানার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের রামেশ্বপুর থেকে শ্রীরামপুর সড়কের নির্মান কাজ চলছে। ফয়সাল তার বাড়ির সম্মুখে সড়কের উপর বর্ষা মৌসুমে কাঁদা থাকায় গতবছর রাস্তায় নিজ অর্থায়নে ইট ফেলে ছিলো। সম্প্রতি সময়ে রাস্তা পাকা করনের নতুন কাজ আসায় ফয়সাল গত শুক্রবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় ইউপি সদস্য এম এ মুহিত এর অনুমতি নিয়ে কিছু ইট তার বাড়ির সামনে কাদায় দেয়ার জন্য আনতে যায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা আলালা মিয়া পূর্ব প্রতিহিংসা থেকে ইট নিতে বাঁধা দেন। একপর্যায় আলাল মিয়া গালিগালাজ করে ফয়সালের মাথার পেছনে হাতের কোদাল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। এতে ফয়সালের মাথার খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। এসময় তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে থাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় সিলেট নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি করে মাথায় কয়েক দফা অস্ত্র পাচার করা হয়। এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বর্তমানে সিলেট নূরজাহান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
ফয়সালের মা রুনা লায়লা বলেন, আমার ছেলে এলাকার সামাজিক কাজে জড়িত। এসব দেখে আলাল হিংসা করতো। রাস্তায় নতুন কাজ এসেছে। আমার মেয়ের বিয়ের সময় আমার ছেলে এখানে তার টাকা দিয়ে ইট ফেলে ছিলো। বর্তমান ইউপি সদস্যের অনুমতি নিয়ে সড়কের কিছু ইট তুলতে গেলে আলাল মিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আমার ছেলে এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল মিয়া বলেন, ফয়সাল অনেক ভালো ছেলে। সে এলাকার সামাজিক কাজে জড়িত। সবার বিপদে আপদে ঝাপিয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় কোন অভিযোগ নাই। আলাল মিয়া প্রতিহিংসা থেকে ফয়সালকে দেশীয় অস্ত্রদিয়ে আঘাত করেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত আলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় ফয়সালের মা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানা মামাল দায়ের করেছেন।