সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশে থাকা গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গাছ কেটে ফেলার পাশাপাশি কর্তন করা গাছ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করা হলেও দীর্ঘদিনেও নিলামে তোলা হয়নি। এতে জব্দকৃত গাছও চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় দয়ামীর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষগাঁও গ্রামের এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘোষগাঁও গ্রামের সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ কতিপয় ব্যক্তি কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলেছেন। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও রাস্তার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগের পর ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে গাছ কাটা বন্ধ এবং কর্তন করা গাছ জব্দ করে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল উপজেলার খাদিমপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মরহুম হাজী মো. আব্দুল মতিন মাস্টারের গেইটের সামনে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি গোপাটের ওপর দিয়ে নির্মিত রাস্তার পাশে থাকা বড় আকারের তিনটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
এর আগে তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরবাঁশের তল, বুরুঙ্গা সড়কের মুখ, উমরপুর বাজারের পশ্চিম পাশসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি গাছ কর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া বাঁশেরতল, ঘোষগাঁওসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্তন করা গাছ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করা হয়। তবে জব্দ করা এসব গাছ দীর্ঘদিনেও নিলামে না তোলায় সেগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে।
সরকারি রাস্তার পাশে থাকা গাছ কর্তনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা গাছগুলো দ্রুত নিলামে তোলার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি গাছ রক্ষায় কার্যকর নজরদারি জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।