কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা বর্ষণে বসতঘর হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও তার পরিবার। গতকাল ১২ জুলাই (রবিবার) মাগরিবের পর পালংখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের কাঁচা বাড়িটি বন্যার স্রোত ও বৃষ্টির তোড়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলামের পরিবারটি বেশ বড়। ৯ জন শিশুসহ পরিবারটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ১৮ জন। এর মধ্যে ৪ জন ছেলে এবং ৫ জন মেয়ে রয়েছে। বাড়িটি ভেঙে পড়ার সময় পরিবারের সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। অলৌকিকভাবে অলৌকিকভাবে কেউ হতাহত না হলেও ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
ভয়ার্ত কণ্ঠে নুরুল ইসলাম বলেন,”হঠাৎ করেই চোখের পলকে ঘরটা ভেঙে পড়ল। সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে বের হতে পেরেছি। কিন্তু এখন আমাদের থাকার আর কোনো জায়গা নেই। ১৮ জন মানুষ নিয়ে এই দুর্যোগের মধ্যে কোথায় দাঁড়াব?”
ঘরটি হারিয়ে বর্তমানে নুরুল ইসলামের পরিবার চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তীব্র বর্ষণ আর রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে কিংবা পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে দিন পার করছে ৯টি শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ করে সব হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
এই চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় নুরুল ইসলাম তার বিশাল পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে এবং মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা না পেলে ১৮ সদস্যের এই পরিবারটির কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।