টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় একটি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বধুরঝীরিতে রাত আনুমানিক ৩টার সময় পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে মোঃ উসমান এর ঘরের পেছনের দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং ঘরের ভেতর মাটি ঢুকে যাওয়ায় পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যায়। একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড় ধসে পড়ে বসতঘরটির পেছনের অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের দেয়াল ভেঙে যায়, মাটিতে চাপা পড়ে আসবাবপত্রেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরের অন্য পাশে অবস্থান করায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সবাই।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় তারা চরম উদ্বেগে দিন পার করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবক মোঃ নেজাম উদ্দিন কোম্পানি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এবং তৎক্ষনাৎ বাড়ি থেকে মাটি গুলো বের করার জন্য ৮ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেন।
ভুক্তভোগী মোঃ উসমান বলেন, এমন সময়ে নেজাম উদ্দিন কোম্পানি আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।
এ সময় নেজাম উদ্দিন কোম্পানি বলেন,
“দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রশাসন ও বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে পরিবারটি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইয়াংছার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এখনো পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, দুর্যোগের এমন কঠিন সময়ে নেজাম উদ্দিন কোম্পানির মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য কিছুটা হলেও সাহস ও আশার সঞ্চার করেছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি সহায়তা, নিরাপদ পুনর্বাসন এবং পাহাড়ধস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।