1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
অধ্যক্ষের ‘ভুয়া’ দাবি, তদন্তে মিলল উল্টো চিত্র:শিক্ষাবোর্ডের আশ্বাস - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যানকে দেখতে পিজি হাসপাতালে আরজেএফ চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম। খুলনা জেলা কারাগার থেকে দেয়াল টপকিয়ে পালিয়েছে আসামি অধ্যক্ষের ‘ভুয়া’ দাবি, তদন্তে মিলল উল্টো চিত্র:শিক্ষাবোর্ডের আশ্বাস নাগরপুরে সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যু খুলনা রেলস্টেশনে কোটি টাকার স্বর্নের বার সহ আটক যুবক বোয়ালখালীতে পাহাড়ি ঢলের স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ যুবক মাতামুহুরীতে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচার মৃত্যু, গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী বাঙ্গালহালিয়া বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশণ ব্যাবস্থার উন্নতিকরণ কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিজিবি, জরুরি ত্রাণ বিতরণ ফুলগাজীতে শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ সহ এনসিপি নেতৃবৃন্দ

অধ্যক্ষের ‘ভুয়া’ দাবি, তদন্তে মিলল উল্টো চিত্র:শিক্ষাবোর্ডের আশ্বাস

reporter এস.এম লুৎফুর কবির,কক্সবাজার
calendar প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

★নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় অনিয়মিত প্রশ্ন,★তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা,★২৪ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়
★অধ্যক্ষের ‘ভুয়া’ দাবিতে নতুন বিতর্ক,★শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার শঙ্কা শিক্ষার্থীদের,★বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস শিক্ষা বোর্ডের
★পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ডিসি, ইউএনও ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাস,★দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস,★শিক্ষাবোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পরীক্ষার্থীরা
★দ্রুত সমাধান চান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে চট্রগ্রাম শিক্ষাবোর্ড, জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা বিভাগ,উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

গত ২ জুলাই সারা দেশের মতো হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজেও উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার প্রথম দিনই অভিযোগ ওঠে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয় এবং তাদের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

ঘটনার পর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বরত হল পরিদর্শকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তবে এরই মধ্যে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফর আলম কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। ওই বিবৃতিতে তিনি প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের অভিযোগকে ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অধ্যক্ষের ওই বিবৃতির পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, ইউএনওর আশ্বাসে তারা আবার পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যের পর তারা কোনো সমাধানের আশা দেখতে পাচ্ছেন না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বহুনির্বাচনি অংশে আলাদাভাবে উত্তীর্ণ হতে হয়। তাই এই সমস্যার সমাধান না হলে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, একটি বছর নষ্ট হয়ে গেলে শুধু সময়ের ক্ষতিই হবে না, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন সেখানেই থেমে যেতে পারে। ফলে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নও ভেঙে যেতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি সরেজমিন তদন্ত করেছেন। তদন্তে ১০১, ২০১, ২০২ ও ২০৩ নম্বর কক্ষে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষাবোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের সহকারী কলেজ পরিদর্শক আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি বোর্ডের নজরে রয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন জমা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদন শিক্ষাবোর্ডে জমা দিয়েছে। এখন এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে শিক্ষাবোর্ড। বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ), মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং আগামী রোববার আরও প্রতিবেদন জমা হবে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কলেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকরা বলছেন, এমন একটি স্বনামধন্য কলেজে এ ধরনের ঘটনা দায়িত্বে অবহেলা ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাদের মতে, অভিযোগ অস্বীকার করে মনগড়া বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল শিক্ষাবোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com