ডুবাই, এশিয়া কাপ ২০২৫ সুপার-৪ এর ম্যাচে বাংলাদেশ দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। শেষ ওভারের উত্তেজনায় ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। এই জয়ে সুপার-৪ এ যাত্রা শুরু করল তারা আত্মবিশ্বাস নিয়েই।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হলেও মিডল অর্ডারে দাসুন শনাকার ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগোয় তারা। শনাকা ৩৭ বলে ৬৪ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কা। তাকে সঙ্গ দেন করুণারত্নে ৩২ এবং আসালাঙ্কা ২৫ রানের ইনিংস খেলে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত উইকেটে ১৬৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দুজনেই তুলে নেন দুটি করে উইকেট।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৬৯ রান। ওপেনার লিটন দাস শুরুতেই ফিরে গেলেও উইকেটে স্থির থেকে খেলা ধরেন তরুণ ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ৫৮ রানের দারুণ ইনিংস। সঙ্গে ছিলেন সাইফ হাসান, যিনি খেলেন ৪৫ রানের কার্যকর ইনিংস। তাদের জুটিই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। তবে মাঝপথে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশের ওপর। শেষ দিকে দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র পাঁচ রান। তবে নাটকীয়তার জন্ম দেয় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। ওভারের শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম বলে বাউন্ডারি মেরে অবশেষে জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। ম্যাচটি শেষ হয় বাংলাদেশের স্মরণীয় এক জয় দিয়ে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে সামনে এগোনোর জন্য।” অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা স্বীকার করেন, “আমাদের ফিল্ডিং ব্যর্থতা আর চাপের মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।”
এই জয়ের ফলে সুপার-৪ এ বাংলাদেশের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান মজবুত হলো। একই সঙ্গে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের প্রতিশোধও নিল তারা। আসন্ন ম্যাচগুলোতে ফাইনালের লড়াই টিকিয়ে রাখতে এই জয় নিঃসন্দেহে টাইগারদের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।