আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংস যেন স্মরণীয় এক ছবি। নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখলেন মুশফিকুর রহিম। থেমে থাকেননি লিটন দাসও—তিনিও তুলে নিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। দুজনের মহাকাব্যিক ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪১.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৪৭৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
গতকাল ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক আজ দিনের শুরুতে হামফ্রিসের প্রথম ওভারে রান নিতে না পারলেও, দ্বিতীয় ওভারে জর্ডান নিলের করা তৃতীয় বলে এক রান নিয়ে স্পর্শ করেন কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক। শততম টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি—নিজেকে রাঙিয়ে তুললেন আরও এক মাইলফলকে।
টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র ১১ জন ব্যাটার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার কীর্তি দেখিয়েছেন; এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মুশফিক। একই সঙ্গে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৮৪তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেললেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
মুশফিকের দিকে সবার চোখ থাকলেও, নীরবে নিজের কাজটা দারুণভাবে করে গেছেন লিটন দাস। তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। এটি তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শততম ম্যাচ; মাইলফলকের এই ম্যাচটি সেঞ্চুরি দিয়ে রাঙিয়েছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর এটাই তার প্রথম তিন অঙ্ক স্পর্শ।
প্রথম দিন বাংলাদেশ ইনিংস শেষ করেছিল ২৯২ রানে ৪ উইকেটে। ওপেনিং জুটিতে ৫২ রান যোগ করেন সাদমান ইসলাম (৩৫) ও মাহমুদুল হাসান জয় (৩৪)। তিনে নামা মমিনুল হক ফিফটি (৬৩) করে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়েন। নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৮ রান করে ফিরলে লিটন দাস এসে মুশফিককে সঙ্গ দেন।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর ১০৬ রান করে আউট হন মুশফিক। এরপর লিটন এগিয়ে যান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে। লিটনের ইনিংস থামে ১২৮ রানে। মিরাজ আউট হন ৪৭ রানে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪৭৬ রানে।