ফারুক হোসেন , হালুয়াঘাট: কার্তিক শেষ হতে না হতেই পাহাড়ি সীমান্ত ঘেরা ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে শীত। ভারতের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন উঁচুনীচু পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানকার প্রকৃতিতে অন্যান্য এলাকার তুলনায় কিছুটা আগেই শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি বাতাস আর ভোরের ঘন কুয়াশা জানান দিচ্ছে—শীত এখন আর বেশি দূরে নয়।
শীতের এই প্রাথমিক পরশেই জমে উঠতে শুরু করেছে হালুয়াঘাটের গ্রামগঞ্জ ও বাজারগুলো। পাহাড়ি লোকালয়গুলোতে এখন ঘরের আঙিনা থেকে শুরু করে মোড়ের দোকানে দোকানে পৌষালি আমেজ।
শীতের আগমনকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়েছে শীতকালীন নানা পদের সুস্বাদু পিঠা বানানোর তোড়জোড়। ভাপা, চিতই, তেল পিঠা (পাকন), পাটিসাপটা সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পিঠার সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। শুধু পিঠাই নয়, শীতের কুয়াশামাখা মিষ্টি সকালে টাটকা খেজুরের রসের সাথে মচমচে মুড়ির স্বাদ নিতে গ্রামগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ।
সকালের হিমশীতল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় দেখা মিলছে এক চেনা গ্রামীণ রূপের। বোরো ও আমন ধান কাটার এই সময়ে গাঁয়ের প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠরা গায়ে গরম পোশাক চাপিয়ে এক জায়গায় জড়ো হয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে তৈরি সেই আগুনের উত্তাপের চারপাশে বসে চলছে তাঁদের আড্ডা, স্মৃতিচারণ আর সুখ-দুঃখের নানান গল্পগাথা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি সীমান্ত ঘেরা এলাকা হওয়ায় প্রতি বছরই হালুয়াঘাটে একটু বেশিই শীত পড়ে। তবে তীব্র শীতের কষ্ট ভুলিয়ে দেয় এখানকার সোঁদা মাটির গন্ধ, সকালে খেজুরের রস-মুড়ি আর প্রবীণদের সেই জম্পেশ আড্ডা। শীতের পুরো মৌসুমজুড়ে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পুরো হালুয়াঘাটজুড়ে এখন এক অন্যরকম আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।