আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: সরকার পরিবর্তনের পর সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীতে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং আলোচনা-সমালোচনার ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে নরসিংদীর শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং শিল্পপতিদের নামে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা দাখিলের দুদিনের মাথায় সেই মামলা আবারো রহস্যজনক কারণে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনই একটি আলোচিত, সমালোচিত ঘটনা বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) নরসিংদীর আদালতে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে।
নরসিংদীতে আলোচিত দুজন শিল্পপতির নামে মামলা হয়েছে এবং এই মামলা দুইদিন পর রবিবার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমঝোতার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। এই দুই শীর্ষ শিল্পপতিদের মধ্যে একজন হলেন নরসিংদীর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী হোসেন শিশির এবং অপরজন হলেন মাধবদীর শীর্ষ শিল্পপতি নিজাম উদ্দিন ভুইয়া লিটন। এ দুজন নরসিংদী জেলায় শিল্পপতিদের মধ্যে অন্যতম।এই দুই ব্যক্তিসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ ছাড়াও এই মামলায় নরসিংদী সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম হিরু, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, নরসিংদী সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, মাধবদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশারফ হোসেন মানিক সহ একশত তেইশ জনের বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকালে আনন্দী চৌরাস্তা মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার মিছিল চলাকালে গুলিতে শাওন নামে একজন নিহতের ঘটনায় তারই চাচাত ভাই মাধবদী মনোহপুর এলাকার খলিল মিয়ার পুত্র মো.আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোল্যা সাইফুল আলমের আদালতে মাধবদী সি আর ৮৪৭/২০২৪ ইং একটি মামলা দায়ের করে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মাধবদী থানার ওসিকে এফ আই আর হিসেবে গন্য করার জন্য আদেশ প্রধান করেন।
উক্ত আদেশ যথারিতি আদালতের মাধ্যমে থানায় প্রেরন করা হয়। আদালত সুত্রে জানাজায় পববর্তীতে ১ সেটেম্বর রবিবার মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন আবেদনটি বিজ্ঞ আদালতের বিচারক আমলে নিয়ে মাধবদী থানায় প্রেরন করেন।
এছাড়াও নরসিংদী শিবপুরের ভরতেরকান্দী এলাকার মোঃ আরিফ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জহিরুল ইসলাম মোহন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নরসিংদীর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদধারী মোট ৪৫ জনকে আসামী করে নরসিংদীর বিজ্ঞ শিবপুর সি.আর আমলী আদালতে একটি মামলার এজাহার দাখিল করেন। অপর একটি মামলা শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার নামে একটি হত্যাকান্ডের অভিযোগ এনে মাধবদীর রুবিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন। এই মামলায় আরো একাধিক ব্যক্তির নামে আসামী করা হয়।
এই মামলা দুটি আদালতে দাখিলের পর দুপুর হওয়ার আগেই নরসিংদী শহরজুড়ে জনমুখে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতপাড়ায় ব্যাপক গুঞ্জন, আলোচনা, সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলা দায়ের করার ঘন্টা তিনেক পরেই মামলা দুটি প্রত্যাহার করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কি কারণে সকালে মামলার এজাহার দাখিল করে দুপুরেই মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ কেউ বলতে পারছেন না। আদালতের আইনজীবীরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এছাড়া এই শীর্ষ শিল্পপতি ছাড়াও গত কয়েকদিনে অন্ততঃ ৮/১০টি মামলার ঘটনা ঘটেছে। যা মামলার প্রক্রিয়া করে জমা দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সে মামলা সমঝোতায় যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) নরসিংদী থানার দুজন এসআই এবং ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের নামে একাধিক মামলা প্রক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মামলাগুলো আদালতে নথিভুক্তকরার আগেই উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ঘটনাও ঘটছে। টানা গত কয়েকদিন নরসিংদীর আদালপাড়ায় আওয়ামী লীগের এমন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এবং শীর্ষ পর্যায়ের আমলাদের নামে মামলা হওয়া এবং প্রত্যাহার, সমঝোতার ঘটনায় জনমুখে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
তাছাড়া গত বুধবার (২১ আগস্ট) সাবেক শিল্পমন্ত্রী এড. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নরসিংদী জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম সম্বলিত ১১৪ জনকে আসামী করে হত্যার অভিযোগ এনে একটি এজাহার দাখিল করার পর অজ্ঞাত কারণে মামলাটি উঠিয়ে নেয়।
শোনা যাচ্ছে এড. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। সেই কারণে নরসিংদীর সিনিয়র আইনজীবীগণ এড. নুরুল মজিদ হুমায়ুনকে বাদ দিয়ে এজাহার দাখিল করার জন্য বাদীকে বাধ্য করে।এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, বাদী মামলা আদালতে দাখিল করে এবং বাদীই আবার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সভাপতি হিসেবে আমার কিছুই করার থাকে না।
এ বিষয়ে নরসিংদী পুলিশ সুপার মো.আব্দুল হান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলার বিষয়ে আমার জানানেই তবে কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হলে প্রত্যাহারের সুযোগ নেই তবে আদালতের বিষয়ে আমার কোন বলার নেই।