জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য।সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও নাগরিক সেবার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
GPMS কর্মপরিকল্পনার আওতায় জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় জনগণ, নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম ও সেবার তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা, মতামত ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সদানন্দ পাল এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর মিয়া।
উঠান বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেসব কর্মসূচির তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় তথ্যের অভাবে মানুষ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন না। এ কারণে জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে সরাসরি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।বক্তারা আরও বলেন, শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে সরকারি তথ্য পৌঁছে দিতে উঠান বৈঠকের মতো কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরতে পারেন।উঠান বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, কৃষি সংক্রান্ত সরকারি সহায়তা ও সেবা গ্রহণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সরকারি সহায়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়। যোগ্য ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।বক্তারা বলেন, সচেতন নাগরিক ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন নাগরিক তার অধিকার, দায়িত্ব ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে যত বেশি অবগত থাকবেন, রাষ্ট্রীয় সেবাগুলো তত বেশি কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ কারণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জনগণের মধ্যে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উঠান বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণ। কৃষি, শিক্ষা ও সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও জনগণের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
এর ফলে স্থানীয় জনগণ সরকারি সেবাগুলো সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করার পরিবেশ তৈরি হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো. আবদুল জলিল ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সরকারি তথ্য ও জনসচেতনতামূলক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব। জেলা তথ্য অফিস সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও সরকারি তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা ও অন্যান্য প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণ সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ উঠান বৈঠক GPMS কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রথম প্রান্তিকের প্রচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ যত বাড়বে, সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাও তত বৃদ্ধি পাবে। তাই এ ধরনের উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।