টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দীঘিনালা হয়ে রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দীঘিনালা উপজেলার মেরুং-কবাখালী সড়কের একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে কোমরসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল স্রোতের কারণে ছোট-বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
প্রথমদিকে ভ্যান ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা থাকলেও পানির উচ্চতা ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, “মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মেরুং-কবাখালী সড়কের কয়েকটি স্থান প্লাবিত হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে কেউ যেন সড়ক পারাপারের চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।”