1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
সীমানার ওপারে অপেক্ষা - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
​তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগ: সুনামগঞ্জের সরকারি নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন ঘিওরে সরকারি খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবিতে ৪ গ্রামের মানববন্ধন: পরিমাপ শেষে উচ্ছেদের আশ্বাস মুলাদীর ৭ নং কাজিরচর ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা স্টিল ব্রিজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রাজশাহী জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণসভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে ২৬ ব্যাংক চেক মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগ, তিন কর্মচারীর গ্রেফতার মোহনপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ রাজশাহীর সময় ও বাংলার বিবেক লক্ষ্মীপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির নবগঠিত কমিটির সভাপতি মনোয়ার হোসেনকে গণসংবর্ধনা কসবায় রিকভারি ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা, ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল  ঘোড়াঘাটে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ঘোড়াঘাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

সীমানার ওপারে অপেক্ষা

reporter জাহানারা বেগম সেফু
calendar প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ

মানুষ পৃথিবীকে ভাগ করেছে দেশ, ধর্ম, ভাষা আর রাজনীতির নামে।
মানচিত্রে দাগ টেনে এক দেশকে আরেক দেশ থেকে আলাদা করেছে, কোথাও উঁচু দেয়াল, কোথাও কাঁটাতারের বেড়া।
কিন্তু পৃথিবীর কোনো শক্তিই আজ পর্যন্ত দুটি মানুষের হৃদয়ের মাঝখানে একটি প্রকৃত সীমানা টানতে পারেনি।

এই গল্প তেমনই দুই মানুষের। তাদের দেখা হয়েছিল একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে।
পরিচয় ছিল ক্ষণিকের, অথচ সেই অল্প সময়েই তারা বুঝেছিল-কিছু মানুষ জীবনে আসে কোনো কারণ ছাড়াই, কিন্তু চলে যাওয়ার পরও সারাজীবন থেকে যায়।

বিদায়ের সময় তারা কেউই ভাবেনি, এই বিদায় এত দীর্ঘ হবে।মেয়েটি নিজের দেশে ফিরে গিয়েছিল। ছেলেটিও নিজের জীবনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নিয়তি যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। একটি ভুল সিদ্ধান্ত, কিছু ক্ষমতাবানের স্বার্থ, আর কিছু মিথ্যা অভিযোগ মুহূর্তেই বদলে দিয়েছিল একজন মানুষের পুরো জীবন।

যে মানুষটি মুক্ত আকাশের নিচে স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল, সে একদিন চার দেয়ালের ভেতর বন্দি হয়ে গেল।দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর, একসময় মানুষ তাকে ভুলে গেল।পরিবার ধরে নিল, সে আর বেঁচে নেই, বন্ধুরা নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
পৃথিবী থেমে থাকেনি, থেমে ছিল শুধু একজন মানুষের সময়।অথচ তার বুকের ভেতর একটি নাম তখনও আগের মতোই বেঁচে ছিল।সে চাইলে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারত। চাইলে অনেক সত্য প্রকাশ করতে পারত, কিন্তু সেই সত্য উচ্চারণ করলে এমন একজন মানুষের জীবন ভেঙে যেত, যাকে সে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসত, তাই সে নীরব থাকল।

কারও কাছে সেই নীরবতা ছিল পরাজয়, কিন্তু ভালোবাসার কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় সাহস।এদিকে মেয়েটিও নিজের জীবনের সঙ্গে কখনো আপস করতে পারেনি, চারপাশের মানুষ তাকে নতুন জীবন শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে, সময়ের দোহাই দিয়েছে। বলেছে, “অপেক্ষা করে কী হবে?”

সে শুধু মৃদু হেসেছে।

কারণ সে জানত, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো ক্যালেন্ডার দেখে না.. সেখানে বছর গোনা হয় না, গোনা হয় বিশ্বাস।প্রতিটি উৎসব, প্রতিটি ঋতু, প্রতিটি বৃষ্টিভেজা বিকেল তাকে সেই মানুষটির কথা মনে করিয়ে দিত।
অনেক রাত সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবত, হয়তো একই আকাশের নিচে কোথাও আরেকজন মানুষও তাকে মনে করছে।

সময়ের চাকা ঘুরতেই থাকে, মানুষের চুলে পাক ধরে, মুখে বয়সের রেখা পড়ে, শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, কিন্তু কিছু অনুভূতি বয়স মানে না।

বহু বছর পরে একদিন সত্য সামনে এলো।দুজন মানুষের চোখ আবার একে অপরকে খুঁজে পেল।

সেই মুহূর্তে অভিযোগ ছিল না, অভিমানও ছিল না। এত বছরের কান্নারও যেন কোনো ভাষা ছিল না, শুধু দুটি নীরব দৃষ্টি একে অপরকে জানিয়ে দিল-ভালোবাসা আসলে কখনো হারিয়ে যায়নি।

আমরা প্রায়ই ভাবি, ভালোবাসা মানেই একসঙ্গে থাকা, প্রতিদিন কথা বলা, একই ছাদের নিচে জীবন কাটানো।
অথচ জীবনের সবচেয়ে গভীর ভালোবাসাগুলো অনেক সময় দূরত্বে লেখা হয়, সেখানে স্পর্শের চেয়ে বিশ্বাস বড় হয়ে ওঠে, আর পাওয়ার চেয়ে ত্যাগের মূল্য অনেক বেশি হয়ে যায়।

আজকের পৃথিবীতে সম্পর্ক ভাঙতে সময় লাগে না, সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতেই মানুষ একে অপরকে ছেড়ে চলে যায়।
কিন্তু কিছু ভালোবাসা আছে, যেগুলো অপেক্ষা করতে জানে, তারা প্রতিদান চায় না, প্রমাণ চায় না, তারা শুধু প্রিয় মানুষটির সম্মান, নিরাপত্তা আর সুখটুকু বাঁচিয়ে রাখতে চায়।

হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রেমের গল্পগুলো মিলনের গল্প নয়; অপেক্ষার গল্প। সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা সেই মানুষগুলোর, যারা নিজের কষ্টকে লুকিয়ে রেখে প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি দেখতে চায়।

মানুষ মানচিত্রে যতই নতুন নতুন সীমান্ত আঁকুক, ভালোবাসা আজও কোনো ভিসা চায় না, তার কোনো পাসপোর্ট নেই, কোনো জাতি নেই, কোনো ধর্ম নেই, তার একটাই পরিচয়-সে হৃদয়ে জন্ম নেয়, বিশ্বাসে বেঁচে থাকে, আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে যায়।

হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো জিতে যায় না, আবার হারেও না।
সে শুধু মানুষের হৃদয়ে একটি গল্প হয়ে বেঁচে থাকে—যে গল্প সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়, কিন্তু কখনো মলিন হয় না। অনুপ্রাণিত : হিন্দি সিনেমা “বীর জারা”।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com