অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের সঙ্গে আমার জীবনের শেষ মতবিনিময় সভা: একটি অপূর্ণ স্বপ্নের স্মৃতি ,জীবনের কিছু মুহূর্ত কখনো ভোলা যায় না। কিছু মানুষের সঙ্গে শেষ দেখা বা শেষ কথোপকথন সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। প্রখ্যাত লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা ভাষা-সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট চিন্তক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের সঙ্গে আমার শেষ মতবিনিময় সভাটি আজ সেই রকমই এক অমূল্য স্মৃতি।
অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নজরুল-গবেষক, ঘরামিঘর–এর সভাপতি এইচ. এম. সিরাজ। সভাটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।
সেই সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল— "নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এটি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা ছিল না; বরং বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিকশিত করার একটি সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন ছিল।
অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। তাঁর মতে, জাতির আত্মপরিচয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানবিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর বক্তব্য, পরামর্শ ও প্রেরণা আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
আজ সেই মহান মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। তাঁর প্রস্থান বাংলা সাহিত্য, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু তিনি যে স্বপ্ন আমাদের হৃদয়ে বপন করে গেছেন, তা একদিন অবশ্যই বাস্তবে রূপ নেবে—এই বিশ্বাস আমি আজও লালন করি। ইনশাআল্লাহ, একদিন বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। হয়তো স্যার তা দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও স্বপ্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
আজ ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসের মধ্য দিয়ে এই কথাগুলো লিখছি। আমি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে আছি। আর কিছুক্ষণ পর আমার অপারেশন হবে। এমন সময়েই হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি প্রিয় স্যারের মৃত্যুসংবাদ পাই।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর জানাজা কিংবা শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে পারিনি। এই না-পারার কষ্ট, এই অপূর্ণতা হয়তো সারাজীবন আমাকে বেদনাহত করবে। জীবনের শেষবার যার সঙ্গে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে না পারার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আমি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। তাঁর জ্ঞান, গবেষণা, চিন্তা ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকুক।
আমরা যারা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে চাই। নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন তিনি লালন করেছিলেন, তা বাস্তবায়িত হোক—এটাই হবে তাঁর স্মৃতির প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আল্লাহ স্যারকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা