বাংলাদেশ জাতীয় দলের তরুণ ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারী এখনও নিজেকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাকে সবসময় আলোচনায় রাখলেও ধারাবাহিকতার অভাব তার অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান তার ভূমিকাকে নতুনভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ দিয়েছে।
টি–টোয়েন্টি দলে শামীমকে মূলত হার্ড–হিটার ও ফিনিশার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলে ফেরা ২০২৪ সালে তিনি মাত্র ১৩ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে অবদান রাখেন, যা তার স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়েরই প্রতিফলন। এর আগের বছর কঠিন পরিস্থিতিতে ৪২ বলে ৫১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসও তার সামর্থ্যের বড় প্রমাণ ছিল। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তার মোট রান এখন ৫৭৯, ব্যাটিং গড় ১৮.৬৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৩.৭২—যা একজন ফিনিশার হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও নিয়মিত ব্যর্থতা তাকে পিছিয়ে দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝে মাঝে অফ–স্পিন বোলিংয়েও দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন শামীম। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৯ ওভার বোলিং করে মাত্র ২২ রানে ১ উইকেট নেওয়ায় তার বোলিং দক্ষতার আভাস পাওয়া গেছে। ফিল্ডিংয়েও তিনি সবসময়ই প্রাণবন্ত, দ্রুততার কারণে দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দেন।
তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার পারফরম্যান্স এখনো হতাশাজনক। সাত ম্যাচে মোট ৬৭ রান এবং গড় মাত্র ৯.৫৭—যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০২৫ সালের শুরুতে টি–২০ ফরম্যাটেও তার ফর্ম নিয়ে নির্বাচকদের উদ্বেগ বাড়ে। ২৪ ম্যাচে মাত্র ২৬১ রান, গড় ১৫.৩৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১২১.৩৯ তার ব্যাটিং দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। পরপর কয়েক ম্যাচে এক অঙ্কের স্কোর আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা দেয়।
চাপের মুহূর্তে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা শামীমের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবুও জাতীয় দলে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পেতে হলে তাকে মিডল–অর্ডারে স্থিরতা দেখাতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে এখনও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে দেখে, তবে বর্তমান অবস্থায় তিনি অটোমেটিক চয়েস নন।
নিজেকে আরও পরিণত করে তুলতে শামীমকে ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার ধারাবাহিকতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ফিনিশারের ভূমিকায় আরও স্বচ্ছন্দ হওয়া, চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি উন্নত করা এবং বোলিং–ফিল্ডিংয়ে বৈচিত্র্য আনাও তার জন্য জরুরি।
প্রতিভা ও সামর্থ্যের ঘাটতি নেই শামীম পাটোয়ারীর। তবে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠতে হলে তাকে এখনই ধারাবাহিক রান করতে হবে। সেটা করতে পারলে তিনি বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ ফিনিশার হিসেবে দীর্ঘসময়ের জন্য জায়গা করে নিতে পারবেন।