পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মৎস্যজীবীদের অধিকার, জীবিকা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে উপজেলা নেটওয়ার্কের দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (১১ জুলাই) চতলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নেটওয়ার্কের সভাপতি জনাব তালাশ মাহমুদ। সভার কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার শেখ রুসায়েদ উল্লাহ। সভায় প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি অফিসার মিজানুর রহমান গত তিন মাসের প্রকল্প কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় জানানো হয়, গত তিন মাসে তিনটি ইউনিয়নে চারটি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। এসব সমিতির অনুকূলে চারটি জলমহালের লিজ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ৭৩টি মাছ ধরার নৌকায় জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১৮টি নৌকায় জাল বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে ১৫টি ছোট পুকুর ও দুটি বড় পুকুরে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করতে ২ থেকে ৩ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য সদস্যদের নাম প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নেন।
খাস জমির আবেদন প্রসঙ্গে বক্তারা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ঘন ঘন বদলির কারণে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। নতুন ইউএনও যোগদানের পর উপজেলা পানি কমিটি, ভূমি কমিটি, বিপিসি কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জলমহাল লিজের সুফল তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সমবায় সমিতির সদস্যরা জলমহালে মাছ চাষ করে অবরোধকালীন সময়েও মাছ বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন।
সভায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় সদস্যরা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে মাজেদা বেগম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পুনরায় উপস্থাপন করেন। পরে সভাপতি জনাব তালাশ মাহমুদ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।