মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বারবার কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে আসছেন। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলা হচ্ছে বারংবার। বিশেষ করে বরিশাল জেলা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে মাদক প্রতিরোধে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের কঠোর অবস্থানের কথা বিভিন্ন সভায় আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত হুশিয়ারি ও নির্দেশনার পরেও বরিশালের কাজীরহাট থানার প্রতিটি ইউনিয়ন যেন বর্তমানে ‘মাদক কেনাবেচার নিরাপদ হাট’-এ পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকের এই অবাধ বাণিজ্য জনমনে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কাজীরহাট থানার আওতাধীন ইউনিয়নগুলোতে মাদক ব্যবসার বিস্তার এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকাতেও এখন হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো প্রাণঘাতী মাদক। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মাদক কারবারিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাদের ছত্রছায়ায় মাদক বিকিকিনি হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এখন এই মরণনেশার কবলে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কঠোর হুশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা কি তবে নিচতলায় পৌঁছাচ্ছে না? নাকি স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, অনেক সময় মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিলেও রহস্যজনক কারণে তারা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যায়। আবার কখনো কখনো প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিরা পেয়ে যায়, যার ফলে তারা গা ঢাকা দেয়। এই ‘লুকোচুরি’ খেলা স্থানীয়দের মধ্যে এক গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে।
কাজীরহাট এলাকার অভিভাবক মহল আজ আতঙ্কিত। তাদের মতে, এভাবে মাদকের জয়জয়কার চলতে থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে কাজীরহাট থানার প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসাথে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু হুশিয়ারি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মাঠ পর্যায়ে কার্যকরী ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কাজীরহাট থানায় যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং এলাকার শান্তি ফেরাতে মাদক নির্মূলে কোনো আপস করা চলবে না। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই হুশিয়ারি আদৌ কার্যকর হয় নাকি কাজীরহাটের মাদক সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।