ভোলা জেলায় প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে অর্ধলক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পায়নের দাবি স্থানীয়দের। প্রাকৃতিক গ্যাসের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও জেলায় এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা। ফলে জেলার প্রায় ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ বেকার রয়েছেন। কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষিত তরুণ-তরুণী জীবিকার সন্ধানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ভোলার গ্যাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার হলেও জেলার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে এর সুফল এখনো মিলছে না।
ভোলা সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ভোলা নর্থ ও ইলিশা নামে আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে জেলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের ৯টি কূপে প্রায় ২ থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে এই গ্যাস জেলার সাতটি গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের দুটি সংযোগ, তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোলা সদরের দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ভোলা ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভার সীমিতসংখ্যক আবাসিক গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মতে, জেলার সম্ভাবনার তুলনায় এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুবই অপ্রতুল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২ হাজার ৮৬ জন হলেও সম্পূর্ণ বেকারের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৫২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৫ হাজার ৭৮৯ জন এবং নারী ২৯ হাজার ৩৮২ জন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর মো. রুবেল বলেন, "ভোলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত থাকলেও অতীতে প্রয়োজনীয় শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।"
চাকরিপ্রত্যাশী মেহেদি হাসান বলেন, "প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করছেন। কিন্তু জেলায় পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা না থাকায় চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।"
ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা ইসলাম বলেন, "পড়াশোনা শেষ করে ভোলায় বেসরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। বিশেষ করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও সংকুচিত। শিল্পায়ন হলে স্থানীয়ভাবেই কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।" আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "কর্মসংস্থানের জন্য অনেকেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছেন। ভোলায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে এই প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।"
ভোলা জেলা সুজনের সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব সামাজিক ও অপরাধমূলক সমস্যাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই দ্রুত গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।"
ভোলা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, "বিগত সময়ে নানা কারণে অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ভোলা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় নতুন করে শিল্পায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।"
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, "জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। কোনো উদ্যোক্তা বিনিয়োগে আগ্রহী হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে|
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা