বর্ষা এলেই মেঘনার বুকে শুরু হয় রূপালি ইলিশের মৌসুম। নদীর ঘাটজুড়ে ভিড় জমে মাছভর্তি ট্রলার, আড়ত, বরফকল ও ক্রেতাদের। কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে উপকূলের জনপদ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা দৃশ্য যেন হারিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে জেলে, শ্রমিক, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকসহ এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকায় নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
গত কয়েক দিন তজুমদ্দিনের স্লুইসগেট মৎস্য ঘাট , চৌমুহনী মৎস্য ঘাট, কাটাখালি, আনন্দ বাজার,গুরুন্দা বাজার, মহেষখালি বাজার সহ বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ঘাটই প্রায় ফাঁকা। নেই মাছ বোঝাই ট্রলারের ভিড়, বরফ ভাঙার শব্দ কিংবা আড়তের ব্যস্ততা। চায়ের দোকানগুলোতেও নেই জেলেদের প্রাণচাঞ্চল্য। চারদিকে বিরাজ করছে হতাশা আর উদ্বেগ।
প্রতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। এ সময় জেলেরা সবচেয়ে বেশি মাছ পান এবং বছরের বড় অংশের আয়ও আসে এই মৌসুম থেকে। কিন্তু এবার মৌসুমের অধিকাংশ সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন নদীতে গেলেও অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে খালি হাতে। যে অল্প কিছু মাছ মিলছে, তা বিক্রি করে জ্বালানি, বরফ, খাদ্য ও শ্রমিকের মজুরির খরচও উঠছে না।
জেলেরা জানান, মৌসুম শুরুর আগে অনেকেই এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল মেরামত, ট্রলার সংস্কার ও জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা, প্রতিদিনই নতুন করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চৌমুহনী ঘাটের জেলে আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নদীতে থাকি। কিন্তু জাল তুললেই হতাশ হতে হয়। আগে একবার জাল ফেললেই ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন কয়েকবার ফেলেও তেমন মাছ মিলছে না। সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।’
ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় আড়ত ও বাজারেও। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেচাকেনা প্রায় স্থবির। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। কাজের অভাবে ঘাট শ্রমিকদের অনেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, ‘জাটকা নিধন, মা ইলিশ শিকার, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, স্রোত ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের কারণে ইলিশের বিচরণ ব্যাহত হতে পারে। তবে, মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনায় ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা