ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নাগরিক সেবা প্রদানে অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও সরকারি তদন্ত এখনো হয়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আবুল কালাম আজাদ এর আগে ধামসোনা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন সরকারি অর্থের গরমিল এবং তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, প্রকল্পের হিসাব ও সরকারি বরাদ্দের ব্যবহার খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কোনো কোনো পত্রিকায় তার পক্ষ থেকে প্রতিবাদও প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একদিকে সংবাদ প্রকাশ এবং অন্যদিকে পৃথক মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রকৃত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ঋণগ্রস্ত দাবি সচিব আবুল কালামের অভিযোগের বিষয়ে সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ঋণগ্রস্ত বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ঘিরে প্রকাশিত অভিযোগ ও তার সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্যগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার অনুরোধ জানান।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা তারা শুনে আসছেন এবং কেউ কেউ এসব বিষয়ে ভোগান্তিরও শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং সরকারি পর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, আবুল কালাম আজাদের দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক নথিপত্র, প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, নাগরিক সেবা সংক্রান্ত রেকর্ড এবং তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পদের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক। অভিযোগ ও প্রতিবাদ—দুই পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরতে সরকারি নিরপেক্ষ তদন্তের কোনো বিকল্প নেই বলে দাবি করেছেন তারা।
তবে সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই প্রয়োজন। তিনি অভিযোগগুলো সম্পর্কে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন—তার বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।