ঢাকার ধামরাই উপজেলা খাদ্য গোডাউনে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বহীন আচরণ ও ডিলারের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা বা সম্মানি দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি গোডাউনের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুলকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজে কোনো তথ্য না দিয়ে মো. ওহাব নামের এক খাদ্যশস্য ডিলারের নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দেন। ডিলার মো. ওহাব ফোনালাপে বলেন, আমি সবাইকে সম্মানি দিয়ে থাকি, আপনার বিকাশ নম্বরটা দেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহে আসা সংবাদকর্মীর সঙ্গে নিজে কথা না বলে কেন একজন ডিলারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলেন—তা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া সরকারি দায়িত্বশীল পদে থেকে খাদ্যশস্য ডিলারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ বা তথ্য ব্যবস্থাপনা করার বিষয়টি কতটা আইনসম্মত ও নিয়মসঙ্গত, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর সংশয়।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাদ্য গোডাউনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মকর্তাদের এ ধরনের আড়ষ্টতা এবং ডিলারের মাধ্যমে ‘সম্মানি’ দেওয়ার সংস্কৃতি গোডাউনের সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। ডিলারের ওই প্রস্তাবের পেছনে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।