বগুড়ায় গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০০ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয়ের অভিযানকারী একটি দল। রবিবার (১২ জুলাই) রাত একটার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ইউনিটের সামনে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবক নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার হরিতকিডাঙ্গা ইউনিয়নের আঙ্গুরত কলোনি এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৫)।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক মো. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী মৌ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায়। এ সময় বাসের সি-২ নম্বর আসনে টিকিট ছাড়া বসে থাকা ফরহাদ হোসেনের দেহ এবং তার কোলে থাকা একটি কালো ভ্রমণ ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে ব্যাগের ভেতরে পুরোনো কাপড়ে মোড়ানো একটি কালো পলিথিনের মধ্যে রাখা কিউপিজেসিক ব্র্যান্ডের বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের ৩০০ অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ৬০০ মিলিলিটার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার উপপরিচালক মো. জিললুর রহমান বলেন, “মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে মাদক সরবরাহের চেষ্টা করছে। তাদের সেই অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “উদ্ধার হওয়া এই মাদকের চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চলমান অভিযান আগামীতেও একই কঠোরতায় অব্যাহত থাকবে।”
ডিএনসি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং সম্ভাব্য গন্তব্যসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।