রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের তশোপাড়া গ্রামে গ্রামীণ নারীদের কৃষিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে এক প্রাণবন্ত উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তশোপাড়া গ্রামের সচেতন নারীদের আয়োজনে আয়োজিত এ বৈঠকে প্রধান লক্ষ্য ছিল অনাবাদী জমির সদ্ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সঠিক সার প্রয়োগের কৌশল শেখানো।
উঠান বৈঠক শেষে স্থানীয় নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাস্তার দুই ধারে পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন সজিনার চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি বসতবাড়ির অব্যবহৃত আঙিনায় বস্তায় আদা চাষের নতুন পদ্ধতি প্রদর্শনী ও পরিদর্শন করা হয়। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কম খরচে এবং কম জায়গায় পরিবারের বাৎসরিক আদার চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানান উপস্থিত কর্মকর্তারা।
বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক ‘খামারি’ অ্যাপসের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। অ্যাপটি ব্যবহার করে কীভাবে মাটির ধরণ ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে কৃষাণ-কৃষাণীদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের অপচয় রোধ হবে এবং পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ:
উঠান বৈঠকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ প্রদান করেন কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ:উপজেলা কৃষি অফিসার: জনাব কামরুল ইসলাম,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার: জনাব আব্দুল মতিন,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার: জনাব শুভ ভৌমিক,সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার: জনাব মকবুল আহম্মেদ,উপসহকারী কৃষি অফিসার: খাদিজাতুজ্জোহরা
সমাবেশে উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। বস্তায় আদা চাষ ও সজিনা রোপণের মতো ছোট ছোট উদ্যোগগুলো পরিবারে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করে এবং পুষ্টির অভাব পূরণ করে। কৃষি বিভাগ থেকে এই ধরনের উদ্যোগে সব সময় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার বহু সংখ্যক স্থানীয় নারী, কৃষক ও সুধীজন উপস্থিত থেকে কৃষি বিভাগের এসব আধুনিক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।