বরিশালের আগলৈঝাড়ায় প্রতরণার মাধ্যমে এক নারীকে বোন সাজিয়ে পরিচয় গোপন করে জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরেও কোন ধরণের প্রতিকার না পেয়ে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বেলুহার গ্রামে নানা বাড়ির বেলুহার মৌজার ১৬৪ ও ২৬৫ খতিয়ানের ১২টি দাগের ২২ শতাংশ জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন ফাতেমা তুন আঁখি ও তার আপন বড় ভাই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তার বড় ভাই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ ২২ শতাংশ জমির বোনের অংশ গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রতরণার মাধ্যমে জনৈক এক নারীকে বোন সাজিয়ে জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে দলিল লেখক মোঃ শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেলুহার গ্রামের রোজিনা বেগম নামের একজনের কাছে বিক্রি করেন। ওই দলিলে দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম নিজেই পরিচিত হিসেবে স্মাক্ষর করেন এবং সাব-রেজিষ্টার জহিরুল ইসলাম দলিল রেজিষ্ট্রি করেন। এ খবর জানতে পেরে ভুক্তভোগী ফাতেমা তুন আঁখি পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে এসে প্রতরণার মাধ্যমে করা দলিল বাতিলের জন্য আগৈলঝাড়া সাব-রেজিষ্টার ও দলিল লেখকের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন সমাধান না পেয়ে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার ভাই, দলিল লেখক ও সাব-রেজিষ্টার মিলে জনৈক এক নারীকে বোন সাজিয়ে প্রতরণার মাধ্যমে ভুয়া দলিল রেজিষ্ট্রি করে আমাকে আমার প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন। আমি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রতারকদের বিচারের দাবি জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আদলতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দলিলের ব্যপারে জমির ক্রেতা রোজিনা বেগম জানান, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমি ক্রয় করেছি। সেখানে অভিযুক্ত জমি বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান এক নারীকে বোন সাজিয়ে প্রতরণার মাধ্যমে আমার কাছে জমি বিক্রি করে। আমি এই জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেয়ে কলাপাড়া থানায় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
এব্যাপারে দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান আমার পর্ব পরিচিত হওয়ায় তার দেয়া তথ্য ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিত্বে দলিল লেখা সম্পাদন করি। মোস্তাফিজ যদি অন্য কাউকে বোন সাজিয়ে আনে সে ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই।
আগৈলঝাড়া সাব-রেজিষ্টার জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগী ফাতেমা তুন আঁখির মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি জানতে পেরে ইতোমধ্যেই দলিল লেখক শহিদুলের দলিল লেখা মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেই এবং তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করি। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান তার বোন র্দীঘদিন প্রবাসে থাকায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কথা জানালে জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে।