বিশ্ব চিঠি দিবস ১ সেপ্টেম্বর। একসময় মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। দূরে থাকা প্রিয়জনের খোঁজ নেওয়া, ভালোবাসা, অভিমান কিংবা মনের না-বলা কথা প্রকাশ—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল হাতে লেখা চিঠি। একটি চিঠির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষার মধ্যেও ছিল আলাদা এক আবেগ।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বর্তমানে চিঠির জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইলসহ নানা ডিজিটাল মাধ্যম। মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব হলেও হারিয়ে গেছে চিঠির সেই অপেক্ষা, হাতের লেখার স্পর্শ ও ব্যক্তিগত অনুভূতি।
একসময় ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকতেন শহর-গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবারের কাছে চিঠি ছিল প্রিয়জনের খবর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। একটি চিঠি পরিবারের সবাই মিলে পড়তেন এবং অনেক সময় বছরের পর বছর যত্ন করে সংরক্ষণ করতেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গেও চিঠি জড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লেখা চিঠিগুলো মানুষের আবেগ, কষ্ট, আশা ও স্বপ্নের সাক্ষ্য বহন করে। তাই চিঠি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চিঠি দিবস উপলক্ষে সংবাদকর্মী সোহাদ হোসেন প্রান্ত বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠি হয়তো অনেকটাই অপরিচিত। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তবে এর দ্রুততার মধ্যে যেন অনুভূতির পুরোনো ভাষাগুলো হারিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, একটি চিঠি লিখতে মানুষকে সময় নিয়ে নিজের কথাগুলো সাজাতে হয়। এমন অনেক অনুভূতি থাকে, যা সামনাসামনি বা ফোনে বলা যায় না, কিন্তু কাগজের পাতায় সহজেই প্রকাশ করা যায়।
সোহাদ হোসেন প্রান্ত আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে যাক, তবে পুরোনো সংস্কৃতি ও আবেগও ধরে রাখুক। বছরে অন্তত একটি দিন মা-বাবা, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা প্রিয় মানুষকে হাতে লেখা চিঠি দিলে তারা চিঠির গভীর অনুভূতিটি বুঝতে পারবে।
তিনি বলেন, মেসেজ আসে, মেসেজ যায়, থাকে না তার রেশ; চিঠির পাতায় জমে থাকে অনুভূতির আবেশ।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার লেখক, শিল্পী ও আলোকচিত্রী রিচার্ড সিম্পকিন ১ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এরপর থেকে দিনটি হাতে লেখা চিঠির সংস্কৃতিকে স্মরণ ও উৎসাহিত করার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
চিঠি হয়তো আর আগের মতো যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হবে না। কিন্তু একটি পুরোনো চিঠি আজও মানুষের কাছে হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। কাগজ পুরোনো হয়, কালি ফিকে হয়, সময় বদলায় কিন্তু আন্তরিক চিঠিতে লেখা হৃদয়ের কথা কখনো পুরোনো হয় না।
কখনো একটি চিঠিই ছিল দূরে থাকা মানুষটির সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। কয়েকটি হাতে লেখা অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকত ভালোবাসা, অভিমান, অপেক্ষা আর হাজারো অনুভূতি।
আজকের দিনে সেই হারিয়ে যাওয়া আবেগকে আবার মনে করি। শুভ বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা