কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী ও এইচএম ইসমাইল তুহিনের ওপর হামলা এবং সাংবাদিকের ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মানিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় দেওয়া এজাহারটি রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলায় নুর মোহাম্মদ মানিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জিদ্দাবাজার স্টেশন এলাকায় মরহুম ডা. মাসুদ সরওয়ারের মালিকানাধীন জার্মান বাংলা হোমিও ফার্মেসির চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।
বাদীর অভিযোগ, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর মোহাম্মদ মানিকের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করে সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী ও তার সহকর্মী এইচএম ইসমাইল তুহিনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়।
সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ মানিক ও তার ভাই ফরিদুল আলম কন্ট্রাক্টরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় আসামিরা বেশ কিছুদিন ধরে তাকে ও তার সহকর্মীকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের হাত থেকে আদিল আহামেদ চৌধুরীকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তার সহকর্মী এইচএম ইসমাইল তুহিনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকের ৮৫ বছর বয়সী মা বেগম নূরী ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি শ্বাসকষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বৃদ্ধা বেগম নূরীর ব্যাগে থাকা একটি স্মার্টফোন ও নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। চেম্বারে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জার্মানি হোমিও ওষুধের কাঁচের বোতল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার সময় সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচার করছিলেন। বিষয়টি দেখে তার ভাই ঘটনাস্থলে এলে তাকেও হামলাকারীরা মারধর করে আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। আহত সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী ও তার সহকর্মী এইচএম ইসমাইল তুহিনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দেন।
মামলায় নুর মোহাম্মদ মানিক, মো. বাবুল, শফি উল্লাহ, আমান উল্লাহ, মো. সমণ্ড ও আবু তাহেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজন আহত হওয়ায় পৃথকভাবে দুটি মামলা রুজু হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।