কক্সবাজারের চকরিয়ায় আল-রাজি চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবা ও অর্থ লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। অভিযোগকারী এক সচেতন নাগরিক জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) রাত ৮টার দিকে চকরিয়া থানা রাস্তার মোড়, সিঙ্গার শোরুমের উত্তর পাশে অবস্থিত আল-রাজি চক্ষু হাসপাতালে চোখে পড়া একটি ধাতব কণা অপসারণের জন্য যান তিনি।
তার দাবি, হাসপাতালের কাউন্টারে থাকা ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে অগ্রিম ৫০০ টাকা নেন। তবে টাকা নেওয়ার পর কোনো রসিদ বা ভাউচার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।কিছুক্ষণ পর যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চোখের ধাতব কণাটি অপসারণে অপারেশন প্রয়োজন এবং এজন্য আরও ২ হাজার টাকা লাগবে বলে জানানো হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
তিনি জানান, এতে রাজি না হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই চলে যেতে চান এবং অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্য একটি ক্লিনিকে মাত্র ৩০০ টাকায় চোখ থেকে ধাতব কণাটি অপসারণ করান বলে জানান অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আল-রাজি চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে অভিযোগটি উপস্থাপন করা হয়েছে।তাদের দাবি, চিকিৎসাসেবা ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং যথাযথ রসিদ প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটির সত্যতা যাচাই করাও জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।