খুলনা জেলার পাইকগাছা থানাধীন রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকা বাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির প্রাচীন নাম ছিল শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়, এখন নাম হয়েছে বাঁকা বাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপর নির্ভর করে শুধু অত্র এলাকার মানুষই নয়, আশাশুনী থানার দরগাহপুর ও খরিয়াটি, রামনগর, মুড়াগাছা, শাহজাদপুর, কাটাখালী সহ আরো বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার গরিব অসহায় মানুষ চিকিৎসার জন্য আসে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খুবই অবহেলিত। বর্তমান স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এমন ভাবে জরাজীর্ণ ভাবে পড়ে আছে মনে হয় ভূতের বাসা। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির মোটেই সরকার খেয়াল করত না। চারি সাইড দিয়ে পাচিল দেওয়া আছে, সামনে একটি গেট দেওয়া আছে কিন্তু সেই গেটটি নষ্ট হয়ে গেছে ঠিক করার মতন কেউ নাই। ভিতরে এত নোংরা যা বলে বোঝানো যাবে না, মনে হয় ব্রিটিশ আমল থেকে পড়ে আছে।
প্রতিদিন এখানে একটি গ্রাম্য ডাক্তার আসে। সরকার যে ওষুধ দেয় তা ঠিকমতো গরিব মানুষকে দেয় না, যদিও দেয় প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও এন্টাসিড এর বেশি নয়। ডাক্তারের ব্যবহারও তেমন ভালো না।
এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর ভিতরের অবৈধ দখল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই এলাকার একজন ব্যক্তি নাম আতার আলী, তার কাছে ডাক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির গেটের চাবি দিয়ে যায় এবং তাকে দেখা শোনার ভার দেয়। শোনা যায় সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের খুবই ক্লোজ লোক ছিল। সে বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করে, তাই বিগত সরকারের মাথাওয়ালা রাজনৈতিক নেতা এবং ডাক্তারকে সেইসব ফল খাওয়ায়ে তাদেরকে হাত করে রেখেছিল, তাই সে যাই করতো সবাই মেনে নিত।
আজ এই আতার আলী মনে করে এই হাসপাতালটি তার নিজের বাপ-দাদার সম্পত্তি! সে এই হাসপাতালের ভিতর হাঁস-মুরগি, ছাগল লালন পালন করে এবং হাসপাতালের ভিতরের ফাঁকা জায়গায় বিভিন্ন তরকারি লাগিয়ে খায়। এছাড়া এখানে কয়েকটি নারিকেল গাছ এবং অন্যান্য গাছের সবকিছু নিজেই ভোগ করে। গেটটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজের স্বার্থে প্রাথমিক ভাবে একটু ঠিক করে নিয়েছে।
আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিতরেই আমাদের ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক, শফিক, জব্বার, সালাম তাদের স্মৃতির একটি শহীদ মিনার আছে। সেই শহীদ মিনারটি এত অবহেলিত ভাবে পড়ে আছে সেখানে হাঁস-মুরগি, ছাগল এমনকি কুকুরও তার উপরে প্রসাব পায়খানা করছে, আর সাধারণ মানুষ তো করছেই। এটা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা।
সেই থেকে আজও পর্যন্ত সেটি আতার আলীর দখলেই আছে।
তাই বর্তমান সরকার মহোদয়ের কাছে এইসব এলাকার মানুষের জোর দাবি – এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দখলমুক্ত করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করুন, শহীদ মিনারটি পুনরায় সংস্কার করুন, ভিতরের তরকারি চাষ ও হাঁস-মুরগি পালন বন্ধ করুন এবং একটি ডাক্তারি আবাসিক কক্ষ দিয়ে সব সময় একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা যাতে সাধারণ মানুষ জরুরি সেবা পায় তার ব্যবস্থা করুন।