কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প। তবে অভিযান চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মাইক্রোবাসে করে মাদকের বড় একটি চালান পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয় র্যাবের একটি দল। পরে সন্দেহভাজন সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৭৩৮২) সেখানে পৌঁছালে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় মাইক্রোবাস থেকে ১৬টি বস্তায় মোড়ানো বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে উদ্ধার করা গাঁজার পরিমাণ ৪০ কেজি বলে জানা যায়।
এদিকে অভিযান চলাকালে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উদ্ধার করা গাঁজা ওজন করার দৃশ্য এবং আটক ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, শুধু ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়াই নয়, ঘটনাস্থলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে সাময়িকভাবে মোবাইল ফোনও নিয়ে রাখা হয়। পরে কিছু সময় পর সেগুলো ফেরত দেওয়া হয় বলে জানান তারা।
দৈনিক কালের নতুন সমাজ-এর কুলিয়ারচর প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. সবুজ মিয়া বলেন, “র্যাবের অভিযান চলাকালে কুলিয়ারচরের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরীসহ তাকে অভিযানের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। একই সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকেও মোবাইল ফোন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য রাখা হয়েছিল।”
তবে সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে র্যাবের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অভিযান পরিচালনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পরও কুলিয়ারচর থানায় এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও একজনকে আটক করেছে বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রকাশ্য স্থানে পরিচালিত অভিযানের সময় সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাশা করছেন।