টানা ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা এমনকি কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের নিচতলাও পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কোথাও কোমরসমান পানি পেরিয়ে, আবার কোথাও নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে পরীক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রসচিবদের বিলম্বে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। জরুরি বিভাগের সামনে ও রোগীদের শয্যার নিচেও পানি জমে রয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ পানি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে।
সদর হাসপাতাল সড়কের ওষুধ ব্যবসায়ী দিদারুল আলম সুমন বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম তার দোকানে পানি ঢুকেছে। একই এলাকার বাসিন্দা তফাজ্জল হোসেন তজু জানান, তার বাসার নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন ও নালা দিয়ে পানি ধীরগতিতে নামায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভেজা কাপড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন, কেউ কেউ জলাবদ্ধ সড়কে পড়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।
জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশে সহায়তার জন্য নৌকারও ব্যবস্থা করা হয়।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার জানান, এ কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করেনি। জলাবদ্ধতার কারণে দেরিতে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষাকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়নি। বিলম্বে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করতে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষা শুরুর আগ থেকেই তিনি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অবস্থান করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা