পেকুয়ার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে নতুন পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই পৌরসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে পেকুয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করাই উন্নয়নের শেষ ধাপ নয়, বরং সুশাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পেকুয়া ভৌগোলিকভাবে একটি সম্ভাবনাময় জনপদ। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য এবং উপকূলীয় অর্থনীতির বিকাশে এ অঞ্চলের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অপরিকল্পিত বসতি, সংকীর্ণ সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং নাগরিক সেবার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। নতুন পৌরসভা সেই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের সুযোগ এনে দিয়েছে।
নতুন পৌরসভার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি যুগোপযোগী মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন। আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের চাপ, আবাসন, বাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন সাময়িক সুবিধা দিলেও ভবিষ্যতে নতুন সমস্যার জন্ম দেয়।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত করা, অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট স্থাপন এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকেই যাবে। তাই সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়তে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা সংগ্রহ, নিয়মিত অপসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নাগরিক সেবার অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত।
পেকুয়ার সৌন্দর্যবর্ধনেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষরোপণ, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, উন্মুক্ত স্থান রক্ষা, ছোট ছোট পার্ক, শিশুদের খেলার মাঠ এবং হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা হলে পৌরসভাটি শুধু সুন্দরই হবে না, পরিবেশগত ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও পৌরসভার সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত। একটি আধুনিক গণগ্রন্থাগার, ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কমিউনিটি স্পেস গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে পৌর প্রশাসনকে হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। নাগরিক যেন হয়রানি ছাড়া দ্রুত সেবা পান, অনলাইনে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য জানতে পারেন—এমন একটি আধুনিক নাগরিকবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পেকুয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন যেন প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
একটি পৌরসভার সফলতা শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না,নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। কর পরিশোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং আইন মেনে চলার মাধ্যমে নাগরিকদেরও উন্নয়নের অংশীদার হতে হবে।
নতুন পেকুয়া পৌরসভা আমাদের সবার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। আজ যদি দূরদর্শী পরিকল্পনা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগামী এক দশকের মধ্যেই পেকুয়া কেবল একটি পৌরসভা নয়, বরং একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকসেবায় অনুকরণীয় জনপদ হিসেবে দেশের সামনে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটাই হোক নতুন পেকুয়া পৌরসভার অঙ্গীকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা